দেশের টেলিকম ও ডিজিটাল পরিষেবা খাতে আরও বড় লক্ষ্য স্থির করল রিলায়েন্স জিও। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের সমস্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে 5G নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানালেন রিলায়েন্স জিও ইনফোকমের চেয়ারম্যান এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকাশ আম্বানি।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ৪৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আকাশ জানান, দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে জিও আগামী কয়েক বছরে পরিষেবা সম্প্রসারণে জোর দেবে। শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত এলাকাতেও দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার জন্য Jio AirFiber পরিষেবা বিস্তারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কোম্পানির আর্থিক সাফল্যের দিকেও আলোকপাত করেন তিনি। আকাশ জানান, জিও-র কর-পূর্ব মুনাফা প্রথমবারের মতো ৩০ হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। তাঁর মতে, এই সাফল্য সংস্থার ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের আস্থারই প্রতিফলন।
সভায় Jio AirFiber-এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। আকাশের দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার নতুন গ্রাহক এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বাড়ির পাশাপাশি ছোট ব্যবসা এবং বিভিন্ন সংস্থার কাছেও উন্নত ইন্টারনেট ও ডিজিটাল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জিও।
দেশে মোবাইল ডেটা ব্যবহারের চিত্রও তুলে ধরেন তিনি। আকাশের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে একজন ব্যবহারকারী গড়ে মাসে ৪২.৩ জিবি ডেটা ব্যবহার করছেন। এই পরিসংখ্যান বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা দেশের দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের ইঙ্গিত বহন করে।
প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জিও। আকাশ জানান, ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের জন্য একাধিক AI-ভিত্তিক পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা আরও স্মার্ট, দ্রুত এবং ব্যক্তিগতকৃত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, 5G সম্প্রসারণ, AirFiber-এর দ্রুত বৃদ্ধি এবং AI পরিষেবায় বিনিয়োগ— এই তিন ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই আগামী কয়েক বছরে জিও তাদের ডিজিটাল সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত করার পথে এগোবে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যপূরণে সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর শিল্পমহলের।







