তেলের দাম কমতেই শেয়ারবাজারে রকেট-উত্থান, ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির জাদুতে এক ধাক্কায় ৮ লক্ষ কোটির বেশি বাড়ল বাজারমূল্য

On: Monday, June 15, 2026 3:55 PM
---Advertisement---

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমতেই স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতীয় শেয়ারবাজারেও। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তির ঘোষণা এবং হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ স্বাভাবিক হওয়ার খবর সামনে আসতেই তেলের দাম কমেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। আর সেই ইতিবাচক বার্তা পেয়েই সপ্তাহের প্রথম লেনদেন দিবসে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশীয় শেয়ারবাজার।

সোমবার বাজার খোলার পরই উর্ধ্বমুখী হয় দুই প্রধান সূচক। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ১,১০৩.১৮ পয়েন্ট বেড়ে ৭৬,৬৩১.১৩ পয়েন্টে পৌঁছয়। অন্যদিকে, জাতীয় শেয়ারবাজারের নিফটি ৩২৯.৬৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২৩,৯৫২.০৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। শতাংশের নিরিখে উত্থান প্রায় ১.৪। বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য প্রায় ৮.২৫ লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধু শেয়ারবাজারই নয়, শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় মুদ্রাও। ডলারের তুলনায় টাকার দর ৬০ পয়সা বেড়ে ৯৪.৫৮-এ পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা কমলে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে টাকার উপর চাপও কিছুটা কমে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের নজর এখন তেলের দামের দিকে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দর প্রায় ৪.১ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা গত মার্চের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দামও প্রায় ৪.৭২ শতাংশ কমে ৮০.৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে দেশের আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেই কারণেই তেলের বাজারে স্বস্তির খবর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত শুক্রবার থেকেই বাজারে আশাবাদের ইঙ্গিত মিলেছিল। ইরান-আমেরিকা সমঝোতা নিয়ে জল্পনা শুরু হওয়ার পর এবং তেলের দর ৯০ ডলারের নীচে নামতেই সেনসেক্সে ১,৬৯৫.৪০ পয়েন্ট এবং নিফটিতে ৪৬১.৩০ পয়েন্ট উত্থান দেখা গিয়েছিল। সোমবার সেই ইতিবাচক প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।

খাতভিত্তিক সূচকের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ফার্মা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্র ছাড়া প্রায় সব সেক্টরেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে অটো এবং রিয়েলটি সূচক ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিফটি-তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মধ্যে শ্রীরাম ফিনান্স, ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন, বাজাজ ফিনসার্ভ, ট্রেন্ট এবং ইটার্নালের শেয়ার উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখেছে। অন্যদিকে, অ্যাপোলো হসপিটালস, সিপলা, এনটিপিসি, ওএনজিসি এবং হিন্দালকোর শেয়ারে কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা গিয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল থাকে এবং জ্বালানির দাম আরও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে আগামী কয়েকটি লেনদেন সেশনেও বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now