গ্রীষ্মের তাপমাত্রা যখন ৪৫ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছচ্ছে, তখন তার প্রভাব শুধু মানুষের শরীরেই নয়, পড়ছে স্মার্টফোনের উপরও। বিশেষ করে Apple iPhone ব্যবহারকারীদের মধ্যে একাধিক অভিযোগ—হঠাৎ ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে, এমনকি হাতে ধরা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার পেছনে শুধু বাইরের আবহাওয়া দায়ী নয়। ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন অভ্যাসও সমানভাবে প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় ধরে গেম খেলা, ভারী অ্যাপ ব্যবহার, চার্জে লাগিয়ে ফোন চালানো কিংবা সরাসরি রোদে রেখে দেওয়ার ফলে ফোনের প্রসেসরের উপর চাপ বেড়ে যায়। তার সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা নানা অ্যাপ ও সিস্টেম প্রসেস—যার ফলে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে দেখলে, একটি iPhone সাধারণত ০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করে। এর বাইরে গেলে ডিভাইস নিজেকে রক্ষা করতে ‘থার্মাল ম্যানেজমেন্ট’ প্রক্রিয়া চালু করে। তখন স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমে যায়, চার্জিং সাময়িক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমনকি “Charging on Hold” বার্তাও দেখা যায়।
এতেই শেষ নয়। অতিরিক্ত গরমে ফোনের পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে, ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশ কাজ না-ও করতে পারে। কখনও কখনও চার্জ ৮০ শতাংশের বেশি এগোয় না। গুরুতর পরিস্থিতিতে স্ক্রিনে সতর্কবার্তা দেখিয়ে ফোন প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে—তখন শুধু জরুরি কলের সুবিধা চালু থাকে।
তবে কিছু সহজ সতর্কতা মানলেই এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোদে ফোন না রেখে ব্যাগ বা পকেটে রাখা উচিত। চার্জ করার সময় ওয়্যারলেস চার্জিং এড়িয়ে কেবল ব্যবহার করলে তাপ কম তৈরি হয়। সম্ভব হলে ঠান্ডা ঘরে ফোন চার্জ করা ভাল।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ফোনের কভার। মোটা কভার তাপ বেরোতে বাধা দেয়, ফলে প্রয়োজনে সেটি খুলে রাখা উচিত। ফোন বেশি গরম হলে ‘লো পাওয়ার মোড’ চালু করলে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি কমে গিয়ে ডিভাইস ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
সামান্য গরম হওয়া স্বাভাবিক হলেও, বারবার এমন হলে তা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ দীর্ঘদিন অতিরিক্ত তাপের প্রভাব পড়তে পারে ব্যাটারি এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের উপর। তাই সচেতন ব্যবহারই iPhone-কে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখার চাবিকাঠি।






