ডিজিটাল যুগে গান তৈরি করাই আর শিল্পীদের একমাত্র কাজ নয়। এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে সমাজমাধ্যমে উপস্থিতি, অনুসরণকারীর সংখ্যা, ভিউ কিংবা অ্যালগরিদমের খেলাও। আর সেই পরিবর্তিত বাস্তবতাই এ বার সামনে আনলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল (Shreya Ghoshal)।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া বলেন, বর্তমান সময়ে শিল্পীদের শুধু গান গাইলেই চলে না, একই সঙ্গে নানা ডিজিটাল পরিসংখ্যান নিয়েও ভাবতে হয়। তাঁর মতে, এই প্রবণতা অনেক সময় শিল্পীসত্তার উপর চাপ তৈরি করে। গানের প্রতি সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করাও কঠিন হয়ে ওঠে।
এই প্রসঙ্গে উঠে আসে বছরের শুরুতে অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)-এর করা মন্তব্যও। তিনি জানিয়েছিলেন, আর ছবিতে প্লেব্যাক করবেন না। সেই সিদ্ধান্তে অনুরাগীদের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। পরে শ্রেয়াও এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “মনে হয়, এ বার খানিকটা বিরতি চাই, আর ভাল লাগছে না।”
তবে ডিজিটাল যুগের এই চাপের মধ্যেও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রশংসা করেছেন শ্রেয়া। তাঁর কথায়, “আজকের তরুণ গায়ক ও সুরকারেরা এক দিকে ভাল গান তৈরি করছেন। অন্য দিকে শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। একই সঙ্গে নিজেদের শিল্পচর্চাও চালিয়ে যাচ্ছেন, যা মোটেই সহজ কাজ নয়।”
নব্বইয়ের দশকে কেরিয়ার শুরু হওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান বলেও মনে করেন তিনি। শ্রেয়ার মতে, সেই সময় শিল্পীদের কাজকে বিচার করা হত মূলত গানের ভিত্তিতেই। সমাজমাধ্যম বা ডিজিটাল জনপ্রিয়তার এত চাপ ছিল না। শ্রোতাদের ভালবাসাই শিল্পীদের প্রতিষ্ঠিত করত।
একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, শিল্পচর্চার কোনও শেষ নেই। এখনও তিনি প্রবীণ, সমসাময়িক এবং নবীন শিল্পীদের কাছ থেকে শিখে চলেছেন। তাঁর মতে, গান, নাচ বা চিত্রকলার মতো যে কোনও শিল্পের প্রাণই হল আবেগ। সেই আবেগ না থাকলে শিল্প মানুষের হৃদয়ে পৌঁছতে পারে না।








