ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট যখন চরমে, ঠিক তখনই ভারতের জন্য এল এক বিরাট সুখবর। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ, অন্যদিকে ঘরোয়া বাজারে রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম— এই দ্বিমুখী সংকটের মাঝেই আন্দামান সাগরে নতুন এক প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডারের সন্ধান পেল নয়াদিল্লি। নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য এই আবিষ্কার যে এক মস্ত বড়ো স্বস্তির বার্তা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সম্প্রতি এই সাফল্যের খবরটি সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে ভাগ করে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। এই আবিষ্কারকে ‘শক্তি সম্ভাবনার মহাসাগর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ খনন করে এই সাফল্য পেয়েছে।
‘শ্রী বিজয়াপুরম-৩’ কূপের সাফল্য
অয়েল ইন্ডিয়ার খনন করা এই বিশেষ অনুসন্ধান কূপটির পোশাকি নাম রাখা হয়েছে ‘শ্রী বিজয়াপুরম-৩’। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, গত কয়েক বছরে এই অঞ্চলের তিনটি ভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান চালিয়েছিল সংস্থাটি। তার মধ্যে দু’টি স্থানেই মিলেছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
গভীর সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডারকে দেশের কাজে লাগাতে ইতিমধ্যেই ‘সমুদ্রমন্থন মিশন’ শুরু করেছে ভারত। এই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার বড়ো পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। সেই লক্ষ্যমাত্রার মাঝেই আন্দামানের এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ-বিশেষজ্ঞরা।
ঠিক কতটা গভীরে এই ভান্ডার?
টুইট বার্তায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এই অভিযানের প্রযুক্তিগত দিকটি তুলে ধরে লিখেছেন, “৩৫৫ মিটার গভীর জলে শ্রী বিজয়াপুরম-৩ কূপটি খনন করা হয়েছিল। সমুদ্রতলের ইওসিন স্তরে মাটির ১৯০০ মিটারের বেশি গভীরতায় প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গিয়েছে।” ভূ-বিশ্লেষকদের অনুমান, ওই বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ৩০.৭ কোটি থেকে ৩৭ কোটি মেট্রিক টন পর্যন্ত হাইড্রোকার্বনের সন্ধান মিলতে পারে।
বাণিজ্যিক উৎপাদন ও আগামীর আশা
তবে গ্যাসের সন্ধান মিললেও সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে এর সুবিধা পৌঁছাতে এখনই কিছুটা সময় লাগবে। এই গ্যাস এখনই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব নয়; তার জন্য নয়াদিল্লিকে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে তার আইসোটোপ নিয়ে ল্যাবরেটরিতে গবেষণা চালাচ্ছে অয়েল ইন্ডিয়া। ফলত, দেশের বর্তমান ৮৫ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এক ধাক্কায় কমে যাওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক সম্ভাবনা নেই।
তা সত্ত্বেও ভারতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী কেন্দ্র। পেট্রলিয়ামমন্ত্রী পুরী আত্মবিশ্বাসের সুরেই জানিয়েছেন, “অচিরেই গায়ানার মতো বিরাট প্রাকৃতিক সম্পদের হদিস দেবে আন্দামান সাগর।” যদি তাঁর এই অনুমান সত্যি হয়, তবে ভারতের জ্বালানি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। আর তা হলে আগামী দিনে দেশের বাজারে পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসবে বলে আশা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।







