বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলকে সাহস, শক্তি, পরাক্রম এবং কর্মস্পৃহার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ভাগ্য, সমৃদ্ধি এবং অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দুই গ্রহ একই রাশিতে অবস্থান করলে গুরু মঙ্গল যুতি তৈরি হয়।
গ্রহের অবস্থান অনুযায়ী, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গল কর্কট রাশিতে প্রবেশ করবে। সেই সময় কর্কট রাশিতে বৃহস্পতির অবস্থান থাকায় সেখানে মঙ্গল ও বৃহস্পতির সংযোগ তৈরি হবে। জ্যোতিষমতে, এই যুতির প্রভাব বিভিন্ন রাশির কর্মজীবন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং পারিবারিক সম্পর্কে পড়তে পারে। তবে বিশেষ ভাবে তিন রাশির জাতক জাতিকাদের জন্য সময়টি তুলনামূলক ভাবে শুভ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্কট রাশি
কর্কট রাশিতেই গুরু মঙ্গল যুতি তৈরি হওয়ায় এই রাশির জাতক জাতিকাদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জ্যোতিষীয় মতে, এই সময়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ার পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের প্রভাবও বৃদ্ধি পেতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে বড় কোনও দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারলে পেশাগত ক্ষেত্রে সুনাম অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও সময়টি অনুকূল হতে পারে। ব্যবসায় মুনাফা বাড়ার পাশাপাশি পুরনো আর্থিক চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তুলা রাশি
তুলা রাশির জাতক জাতিকাদের কর্মজীবনেও এই গ্রহের সংযোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কোনও দায়িত্ব আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধির অপেক্ষায় থাকলে সেখান থেকেও সুখবর আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি বা বড় কোনও প্রকল্প পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিদেশি সংস্থা কিংবা দূরের কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ থেকেও লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড় কোনও ব্যবসায়িক চুক্তিতে যাওয়ার আগে সমস্ত শর্ত ও প্রয়োজনীয় নথি ভালো ভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
মেষ রাশি
মেষ রাশির অধিপতি মঙ্গল। তাই মঙ্গলের রাশি পরিবর্তন এবং বৃহস্পতির সঙ্গে তার সংযোগ এই রাশির জাতক জাতিকাদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। জ্যোতিষমতে, এই সময় বাড়ি, জমি, সম্পত্তি অথবা যানবাহন সংক্রান্ত পরিকল্পনায় অগ্রগতি আসতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাড়ি বা গাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে তা বাস্তবায়নের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পারিবারিক জীবনেও স্বস্তি ফিরতে পারে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পুরনো মতবিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা মিটে গিয়ে সম্পর্ক আরও ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গুরু মঙ্গল যুতির প্রভাব বাড়াতে কী করবেন
জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহের শুভ প্রভাবের জন্য কিছু ধর্মীয় আচরণ পালনের কথা বলা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার হনুমানজির আরাধনা বা হনুমান চালিশা পাঠ করা যেতে পারে। বৃহস্পতিবার ভগবান বিষ্ণুর পুজো করার প্রচলনও রয়েছে।
এ ছাড়া সামর্থ্য অনুযায়ী গুড়, ছোলার ডাল, মুগ ডাল কিংবা হলুদ রঙের পোশাক দান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বৃহস্পতি ও মঙ্গলের মন্ত্র জপ করার কথাও জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়েছে। তবে এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত জ্যোতিষীয় প্রতিকারের অংশ। এর কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।







