কয়েক দিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল সোনার বাজার। কিন্তু সপ্তাহের শুরুতেই ছবিটা খানিক বদলাল। সোমবার সকালে সোনার দামে বড়সড় পতনের খবর মিলতেই কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে গয়নার বাজারে। বিশেষ করে যাঁদের বাড়িতে বিয়ে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠান রয়েছে, তাঁদের অনেকেই এখন নতুন করে হিসাব কষতে শুরু করেছেন।
বাজার সূত্রে খবর, এ দিন ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,৯৩০ টাকা। পাশাপাশি ১৮ ক্যারেট সোনার দাম হয়েছে ১২,২৬০ টাকা। অন্য দিকে, এক কেজি রুপোর দাম রয়েছে ২,৬৭,৬০০ টাকা। তবে এই মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি যোগ হবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে সাময়িক চাপ তৈরি হওয়াতেই এই পতন। মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং আমেরিকার সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়েই বাজারে এই প্রভাব পড়েছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনার চাহিদা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, স্বল্পমেয়াদে দামে ওঠানামা থাকলেও ভবিষ্যতে আবার সোনার দাম বাড়তে পারে। তাই যাঁদের এখনই গয়না কেনার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরা এই সময়টাকে সুযোগ হিসেবেও দেখতে পারেন।
গয়না কেনার আগে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ২২ ক্যারেট না ২৪ ক্যারেট— তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি BIS Hallmark রয়েছে কি না, সেটাও দেখে নেওয়া জরুরি। শুধু সোনার দাম নয়, মেকিং চার্জ এবং জিএসটি কত নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও আগে থেকে স্পষ্ট ধারণা রাখা উচিত। একাধিক দোকানে দামের তুলনা করেও কেনাকাটা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে সোনার দাম যেভাবে দ্রুত বেড়েছে, তাতে অনেকেই এখন এটিকে শুধু অলঙ্কার নয়, বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও দেখছেন। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সোনা এখনও বহু মানুষের কাছে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’-এর জায়গা ধরে রেখেছে।
তথ্যসূত্র হিসেবে স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি বা Swarnashilpa Bachao Committee-র বাজারদরের উল্লেখ করা হয়েছে।







