রেকর্ড উচ্চতা থেকে ২৫% সস্তা সোনা! আরও কমবে দাম, না কি এটাই কেনার সেরা সুযোগ?

On: Saturday, June 13, 2026 9:18 PM
---Advertisement---

বছরের শুরুতে যে সোনা একের পর এক রেকর্ড গড়ে বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছিল, সেই মূল্যবান ধাতুই এখন চাপে। আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বোচ্চ স্তর থেকে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে। যদিও সপ্তাহের শেষে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছে, তবু বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আপাতত সোনার সামনে বড় উত্থানের রাস্তা খুব একটা মসৃণ নয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৫,৫৯৫ ডলারে পৌঁছে ঐতিহাসিক শিখর স্পর্শ করেছিল। বর্তমানে সেই স্তর থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ নীচে অবস্থান করছে হলুদ ধাতু। সাম্প্রতিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,২২২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে দেশের কমোডিটি বাজার MCX-এও সোনার দর বেড়ে ১০ গ্রাম প্রতি ১,৫০,৬৭৫ টাকায় উঠেছে।

তবে এই সাময়িক ঊর্ধ্বগতিকে স্থায়ী প্রবণতা হিসেবে দেখতে নারাজ বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, মার্কিন অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সোনার বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে— এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি শক্তিশালী ডলারও সোনার দামের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কমোডিটি বিশ্লেষক আকাশ দোশির মতে, পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এলেই সোনার বাজারে নতুন করে বড় উত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ সংস্থা UBS আরও সতর্ক বার্তা দিয়েছে। তাদের অনুমান, স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৩,৮৫০ থেকে ৪,০০০ ডলারের মধ্যে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান স্তর থেকেও আরও কিছুটা সংশোধনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বন্ড বা অন্যান্য সুদবাহী সম্পদের দিকে ঝোঁকেন। ফলে সোনার মতো সুদহীন সম্পদের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়। অন্যদিকে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের কাছে সোনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এরও প্রভাব পড়ে চাহিদার উপর।

তবে সবটাই যে নেতিবাচক, তা নয়। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক কতটা সোনা কিনছে, তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। গত কয়েক বছরে সোনার দামের উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির বড় আকারের সোনা ক্রয়।

UBS-এর অনুমান, আগামী সময়েও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার পরিমাণ ৭৫০ থেকে ১,০০০ টনের মধ্যে থাকতে পারে। ফলে দাম আরও কিছুটা কমলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য তা নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির দিকে। সেখানেই নির্ধারিত হবে সোনার পরবর্তী দিকনির্দেশ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now