সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য এবার বড় ধাক্কা। এতদিন যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াট্সঅ্যাপ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যেত, এবার তার বেশ কিছু প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য পকেট খালি করতে হবে গ্রাহকদের। মার্কিন টেক জায়ান্ট মেটার এই আকস্মিক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে কনটেন্ট ক্রিয়েটার বা ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এই সিদ্ধান্তের ফলে কি তাঁদের আয়ের ওপর প্রভাব পড়বে? এই নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে প্রযুক্তি মহলে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে এই নতুন নিয়মের কথা প্রকাশ্যে আনেন মেটার প্রোডাক্ট হেড নাওমি গ্লাইট। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াট্সঅ্যাপের প্রিমিয়াম ফিচারগুলি ব্যবহার করতে হলে এবার থেকে পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। অর্থাৎ, সাধারণ সংস্করণের পাশাপাশি বাজারে আসছে ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস এবং হোয়াট্সঅ্যাপ প্লাস।
কত খরচ করতে হবে গ্রাহকদের?
মেটা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রিমিয়াম পরিষেবাগুলির জন্য আলাদা আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে:
ইনস্টাগ্রাম প্লাস ও ফেসবুক প্লাস: প্রতি মাসে খরচ হবে ৩.৯৯ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৪০ টাকার সমান।
হোয়াট্সঅ্যাপ প্লাস: এর জন্য প্রতি মাসে দিতে হবে ২.৯৯ ডলার, ভারতীয় মূল্যে যা প্রায় ২৫৫ টাকা।
সাধারণ গ্রাহকদের কি চিন্তার কারণ আছে?
হুট করে এই খরচের খবরে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মনে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে মেটা আশ্বস্ত করেছে যে, বর্তমানে যে সমস্ত বিনামূল্যে ব্যবহারের অ্যাপ রয়েছে, সেগুলি এখনই বন্ধ হচ্ছে না। নাওমি গ্লাইট বিষয়টি খোলসা করে বলেন, “কিছু গ্রাহক অতিরিক্ত ফিচার এবং প্রিমিয়াম টুলের সুবিধা নিতে চান। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই পেইড সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান চালু করা হয়েছে।” ফলে আমজনতার এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
অতিরিক্ত কী কী সুবিধা মিলবে এই ‘প্লাস’ সংস্করণে?
টাকা খরচ করলে গ্রাহকরা বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও আধুনিক ফিচার পাবেন, যা সাধারণ অ্যাপে থাকবে না।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস: এখানে থাকছে অত্যন্ত উন্নত অ্যানালিটিক্স টুল, রিল বা স্টোরি নিজের ইচ্ছেমতো বারবার দেখার বিশেষ সুবিধা এবং প্রোফাইল কাস্টমাইজেশনের অপশন। এ ছাড়া নিজেদের কনটেন্ট আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ টুল দেওয়া হবে, যা মূলত কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের কাজে লাগবে।
হোয়াট্সঅ্যাপ প্লাস: এই ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর জোর দিয়েছে মেটা। পেইড গ্রাহকরা পাবেন প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম অ্যাপ থিম এবং একগুচ্ছ নতুন রিংটোন ব্যবহারের সুযোগ।
ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়ে নাওমি আরও জানান যে, আগামী দিনে সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক আরও কিছু প্ল্যান আসতে চলেছে, যেখানে বিষয়ভিত্তিক ভিডিও, ছবি, ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর টুল এবং কৃত্রিম মেধা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সুবিধা থাকবে।
কেন হঠাৎ এই পথে হাঁটল মেটা?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেটা এবার তাদের চিরাচরিত বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক ব্যবসার মডেল থেকে কিছুটা সরে আসতে চাইছে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রযুক্তির পরিকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্ক জ়ুকারবার্গ। জানা গেছে, এই খাতে মেটা চলতি বছরে ১২,৫০০ কোটি থেকে ১৪,৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ করতে চলেছে, যা মূলত বড় বড় ডেটা সেন্টার তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। আর সেই বিপুল খরচের একটা অংশ তুলতেই গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রিমিয়াম ফিচারের নামে টাকা নেওয়ার এই নতুন কৌশল।






