চাকরিজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয় হল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF)। অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তার জন্য এই তহবিলের উপর ভরসা করেন লক্ষ লক্ষ কর্মী। কিন্তু অনেকেই এখনও তাঁদের EPF অ্যাকাউন্টে নমিনি যোগ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে যদি অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হয়, তাহলে সেই জমা টাকার অধিকার কার? কী ভাবেই বা সেই অর্থ দাবি করা যায়? এই প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি ওঠে।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, EPF অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ই নমিনি যুক্ত করে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ। যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে বহু অ্যাকাউন্ট এখনও নমিনি ছাড়াই রয়েছে। ভালো খবর হল, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর ওয়েবসাইটে লগ ইন করে ঘরে বসেই ই-নমিনি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
তবে নমিনি না থাকলে কী হবে?
EPFO-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সদস্য নমিনি না রেখেই মারা গেলে তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ডের জমা অর্থের অধিকার পান আইনি উত্তরাধিকারী বা পরিবারের যোগ্য সদস্যরা। অর্থাৎ টাকা সরকারের কাছে থেকে যায় না, তবে তা পেতে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
কারা দাবি করতে পারবেন?
নিয়ম অনুযায়ী, পুরুষ EPF সদস্যের ক্ষেত্রে তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীল বাবা-মা প্রথম দাবিদার। যদি তাঁর কোনও পুত্র আগেই মারা গিয়ে থাকেন, তবে সেই পুত্রের স্ত্রী ও সন্তানও এই অর্থের দাবি করতে পারেন।
অন্যদিকে মহিলা সদস্যের ক্ষেত্রে তাঁর স্বামী, সন্তান, নির্ভরশীল বাবা-মা এবং প্রয়াত পুত্রের স্ত্রী ও সন্তান এই সুবিধার আওতায় আসেন। নমিনি না থাকলে যোগ্য ও জীবিত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমানভাবে অর্থ বণ্টন করা হয়।
টাকা তুলতে কী কী নথি প্রয়োজন?
নমিনি না থাকলে EPF-এর টাকা তুলতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। কারণ আবেদনকারীদের আইনি উত্তরাধিকার প্রমাণ করতে হয়। সে জন্য উত্তরাধিকার সনদ বা লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে পুরো অর্থ ছেড়ে দিতে চান, তাহলে তাঁদের নোটারি করা সম্মতিপত্র এবং অনাদাবি ঘোষণাপত্রও জমা দিতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা থেকে বাঁচাতে যত দ্রুত সম্ভব EPF অ্যাকাউন্টে ই-নমিনি যুক্ত করে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।






