ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল পরিস্থিতি বাংলাজুড়ে। দিনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই, তার সঙ্গে আর্দ্রতার চাপে ঘরের ভেতরেও যেন দমবন্ধ করা পরিবেশ। অনেকের বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলেও, বিদ্যুতের বিলের ভয়ে তা নিয়মিত চালানো সম্ভব হয় না। ফলে ভরসা একমাত্র পাখা—কিন্তু সেখান থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ পদ্ধতি মেনে চললেই সাধারণ ফ্যানকেও অনেকটাই কার্যকর করে তোলা যায়। এমনকি, সামান্য কৌশলে সেই হাওয়াকেই করা সম্ভব ঠান্ডা ও আরামদায়ক।
সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে ধরা হচ্ছে বরফের ব্যবহার। একটি পাত্রে বরফ রেখে সেটি পাখার সামনে রাখলে, বাতাস সেই ঠান্ডা পৃষ্ঠ ছুঁয়ে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ছোট ঘরের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি দ্রুত ফল দেয়।
এছাড়া ভেজা সুতির কাপড় ব্যবহার করাও কার্যকর। জানালায় বা পাখার সামনে হালকা ভেজা কাপড় ঝুলিয়ে দিলে, বাতাস তার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঠান্ডা অনুভূতি তৈরি করে। অনেকে আবার ভেজা চাদর ব্যবহার করেও আরাম পান।
ঘরের বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলা জানালা ও পর্দা বন্ধ রেখে সূর্যের তাপ আটকানো এবং সন্ধ্যার পর জানালা খুলে ঠান্ডা বাতাস ঢোকানো—এই সহজ অভ্যাস ঘরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। পাখার অবস্থান এমনভাবে রাখা দরকার যাতে বাইরের বাতাস সহজে ভিতরে প্রবেশ করতে পারে।
মেঝে বা ছাদে হালকা জল ছিটিয়ে দেওয়ার পদ্ধতিও বেশ কার্যকর। এতে ঘরের তাপ কিছুটা কমে এবং পাখার হাওয়ায় বাড়ে ঠান্ডা অনুভূতি।
এ ছাড়া নিয়মিত পাখা পরিষ্কার রাখাও জরুরি। ধুলো জমে থাকলে বাতাসের গতি কমে যায়, ফলে গরম বেশি লাগে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি টেবিল ফ্যান ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস দ্রুত চলাচল করে, ফলে আরাম বাড়ে।
সব মিলিয়ে, বাড়তি খরচ ছাড়াই কিছু ছোট্ট পরিবর্তনেই গরমের দাপট অনেকটাই কমানো সম্ভব। শুধু দরকার সচেতনতা আর কয়েকটি সহজ অভ্যাস।






