জ্বালানি বাজারে চাপের মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে পেট্রলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক কমে দাঁড়াল মাত্র ৩ টাকা, আর ডিজ়েলের ক্ষেত্রে কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।
এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি এবার কমবে জ্বালানির দাম? তবে পরিস্থিতি ততটা সরল নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন মহলের মতে, এই পদক্ষেপ সরাসরি ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিনির্ভর ভারতের সংস্থাগুলির উপর খরচ বেড়েছে। অথচ দেশীয় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর ফলে বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই ক্ষতি সামলাতেই অন্তঃশুল্ক কমিয়ে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী Hardeep Singh Puri জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে দুটি পথ ছিল—এক, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে দাম বাড়ানো; দুই, আর্থিক চাপ নিজেদের উপর নিয়ে সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধি থেকে রক্ষা করা। সরকার দ্বিতীয় পথই বেছে নিয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। Strait of Hormuz ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছিল। ভারত যে তেলের বড় অংশ আমদানি করে, তার সিংহভাগই এই অঞ্চল নির্ভর। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
যদিও কেন্দ্রের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় ৬০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস আমদানির চুক্তি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।





