কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই সামনে আসছে আরও শক্তিশালী মডেল। সেই দৌড়ে নতুন পদক্ষেপ করল অ্যানথ্রপিক। সংস্থাটি তাদের বহুল আলোচিত এআই মডেল ‘ক্লড মিথোস ৫’-এর সর্বজনীন সংস্করণ চালু করেছে। তবে সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে শুরু থেকেই এই প্রযুক্তিকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার আগে মডেলটিতে একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করেছে সংস্থা।
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, নতুন ‘ক্লড ফেবল ৫’ তাদের তৈরি সবচেয়ে উন্নত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিশ্লেষণভিত্তিক মডেলগুলির অন্যতম। দীর্ঘদিন সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর এবার সেটিকে বৃহত্তর ব্যবহারকারীদের জন্য উপলব্ধ করা হচ্ছে।
কয়েক মাস আগে ‘মিথোস’ মডেলের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক সফটওয়্যার দুর্বলতা বা ভালনারেবিলিটি চিহ্নিত করার ক্ষমতার কথা প্রকাশ্যে আসে। সেই কারণেই প্রযুক্তিটি সাধারণের হাতে না দিয়ে ‘গ্লাসউইং’ নামে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় মার্কিন সরকার-সহ প্রায় ২০০টি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বৃহত্তর বাজারে প্রবেশ করা অ্যানথ্রপিকের জন্য বড় কৌশলগত পদক্ষেপ।
বিশ্বজুড়ে এআই শিল্পে বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিককে সবচেয়ে প্রভাবশালী স্টার্টআপ সংস্থাগুলির মধ্যে ধরা হয়। ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও দুই সংস্থাকে ঘিরে জোর জল্পনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন মডেলের উন্মোচন অ্যানথ্রপিকের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
তবে ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ে। সেই কারণেই ব্যবহারকারীরা যাতে মডেলের নীতিমালা এড়িয়ে সাইবার আক্রমণ বা নিষিদ্ধ কাজে এটি ব্যবহার করতে না পারেন, সে জন্য দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে সংস্থাটি।
অ্যানথ্রপিকের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, রিসার্চ ও ল্যাবস বিভাগের প্রধান ডায়ান পেন রয়টার্সকে বলেন, “ধরুন আমি একজন কলেজ পড়ুয়া এবং আমি এআই মডেলটিকে বললাম কোনও নির্দিষ্ট প্যাকেজ বা কোডের সাইবার দুর্বলতা খুঁজে দিতে সাহায্য করতে। তখন মডেলটি তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং উত্তরের জন্য ‘ফেবল ৫’-এর পরিবর্তে ‘ওপাস ৪.৮’ মডেলটি কাজ করবে, যা ওই দুর্বলতা খুঁজে বার করতে অপারগ।”
সংস্থার দাবি, প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা গিয়েছে, ‘ফেবল ৫’-এর পরিচালন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও এটি কম টোকেন ব্যবহার করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীর মোট ব্যয় অনেক ক্ষেত্রেই কমে যায়।
মূল্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কাঠামো ঘোষণা করেছে অ্যানথ্রপিক। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ লক্ষ ইনপুট টোকেনের জন্য ১০ ডলার এবং প্রতি ১০ লক্ষ আউটপুট টোকেনের জন্য ৫০ ডলার খরচ হবে।
অ্যানথ্রপিক আরও জানিয়েছে, ধাপে ধাপে আরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যাঁরা আগে ‘ক্লড মিথোস’-এর প্রিভিউ সংস্করণ ব্যবহার করতেন, তাঁরা সরাসরি নতুন ‘ক্লড মিথোস ৫’-এ আপগ্রেড করার সুযোগ পাবেন।






