রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলা জনকল্যাণ শিবিরে এবার অন্নপূর্ণা যোজনার নাম সংযুক্তিকরণ পরিষেবাও পাওয়া যাচ্ছে। বহু উপভোক্তার অভিযোগ ছিল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত থাকলেও তাঁদের তথ্য এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার সঙ্গে যুক্ত হয়নি। সেই সমস্যার সমাধান করতেই শিবিরে বিশেষ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, অনেকেই এখনও জানেন না কীভাবে এই প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। ফলে প্রয়োজনীয় পরিষেবা পেতে নানা জায়গায় ঘুরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেই ঝামেলা কমাতে জনকল্যাণ শিবিরে বিশেষ সহায়তা ডেস্ক চালু করা হয়েছে।
শিবিরে গিয়ে আবেদনকারীদের আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তথ্য যাচাই করার পর অনলাইনেই নাম সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। এর ফলে আলাদা করে সরকারি দফতরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
তবে শুধুমাত্র শিবিরের উপর নির্ভর করতে হবে এমন নয়। যাঁরা কোনও কারণে জনকল্যাণ শিবিরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে অনলাইন সুবিধাও। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা পোর্টালে গিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত বিভাগে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া বা আবেদন সংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করা সম্ভব।
আবেদনের অগ্রগতি জানতে ‘ট্র্যাক অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস’ বিভাগে মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে। সঠিক তথ্য দিলে আবেদনকারীর নাম প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে কি না, সেই তথ্যও জানা যাবে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। নাম নথিভুক্ত হলেই সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে না। আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে তথ্য যাচাই করা হবে। সেই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর যাঁরা প্রকল্পের শর্ত পূরণ করবেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত অর্থ পাঠানো হবে।
সরকারের দাবি, অনলাইন এবং অফলাইন— দুই ব্যবস্থার মাধ্যমেই দ্রুত ও সহজভাবে পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেকটাই সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন উপভোক্তাদের একাংশ।







