অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে রাজ্যের একাধিক জেলায় বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। কোথাও বিডিও অফিস ঘেরাও হয়েছে, কোথাও সরকারি কর্মীদের লক্ষ্য করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বঞ্চিত মহিলারা। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবেদনকারীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা দিল নবান্ন। খুব শীঘ্রই অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টালে চালু হতে চলেছে নতুন ‘এডিট’ অপশন। এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা নিজেদের জমা দেওয়া তথ্য সংশোধনের সুযোগ পাবেন।
সরকারি সূত্রের দাবি, অনেক আবেদন শুধুমাত্র তথ্যগত ভুল বা আধার ও মোবাইল নম্বর সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বাতিল হয়েছে। নতুন এই সুবিধা চালু হলে সেই ভুল সংশোধন করে পুনরায় তথ্য আপডেট করা যাবে। ফলে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীদের ভাতা পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
রাজ্য সরকারের দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনা বন্ধ হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই। বরং নির্ধারিত নিয়ম মেনেই যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবর্ষে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আগে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি সুবিধা পেতেন। নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের সময় সরকারি কর্মী, আয়করদাতা এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব বলছে, অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ মহিলা সুবিধা পাবেন।
মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১ কোটি ২২ লক্ষ আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। ২৭ লক্ষেরও বেশি আবেদন বাতিল হয়েছে। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাতিল হওয়া আবেদনগুলির পুনরায় যাচাইয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর সংযুক্ত না থাকা, ভুল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা অথবা একই নম্বর একাধিক সরকারি প্রকল্পে ব্যবহারের কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাইয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
নতুন ‘এডিট’ অপশন চালু হলে আবেদনকারীরা নিজেরাই পোর্টালে লগ-ইন করে জানতে পারবেন তাঁদের আবেদন কেন বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ফের আবেদন আপডেট করার সুযোগও থাকবে। প্রশাসনের আশা, এর ফলে বিভ্রান্তি কমবে এবং প্রকৃত যোগ্য মহিলারা দ্রুত অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সুবিধা পেয়ে যাবেন।






