দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস বা UFBU। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও এক দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মী ও আধিকারিকদের একাংশ। ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফের ব্যাঙ্কের শাখাভিত্তিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যাঙ্ক কর্মীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু রেখে শনিবার ও রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া। UFBU-র দাবি, পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর প্রস্তাব নিয়ে ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং কর্মী সংগঠনগুলির মধ্যে সমঝোতা হলেও বিষয়টি এখনও সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহের পাশাপাশি পেনশন সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি এবং পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভ বা PLI নিয়েও ইউনিয়নগুলির আপত্তি রয়েছে।
ধর্মঘটের প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। ২১ সেপ্টেম্বর ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রধানদের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন ও নাবার্ডের প্রতিনিধিরা থাকবেন। ধর্মঘট চলাকালীন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং জরুরি গ্রাহক পরিষেবা যতটা সম্ভব সচল রাখার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।
টানা তিন দিনের ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি যুক্ত হওয়ায় শাখাভিত্তিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় মোট পাঁচ দিনের প্রভাব পড়তে পারে। ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৫ সেপ্টেম্বরের পর পরবর্তী কর্মদিবস পর্যন্ত শাখায় গিয়ে বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তার উপর সেপ্টেম্বরের শেষভাগ ব্যাঙ্কগুলির অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময় হওয়ায় ধর্মঘটের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। ১১ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটেও শাখাভিত্তিক নগদ লেনদেন ও চেক ক্লিয়ারেন্সে প্রভাব পড়লেও ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু ছিল। ফলে গ্রাহকরা অনলাইন ও মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের মতো পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন। এটিএম পরিষেবাও চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শাখায় গিয়ে নগদ জমা বা তোলা, চেক সংক্রান্ত কাজ কিংবা অন্যান্য কাউন্টার পরিষেবার প্রয়োজন থাকলে আগেভাগে কাজ সেরে রাখা সুবিধাজনক।
উল্লেখ্য, UFBU-র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের তিন দিনের ধর্মঘটের পরও দাবি পূরণ না হলে ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।








