নিরাপদ বিনিয়োগের পাশাপাশি নির্দিষ্ট হারে রিটার্ন পাওয়ার জন্য পোস্ট অফিসের সঞ্চয় প্রকল্পগুলির উপর বহু মানুষের ভরসা রয়েছে। কম অঙ্ক দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সঞ্চয় গড়ে তোলার সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনই এককালীন বিনিয়োগের মাধ্যমেও তৈরি করা যায় বড় ফান্ড। এই ধরনের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে পোস্ট অফিস ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা NSC।
বর্তমানে NSC তে বার্ষিক ৭.৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই প্রকল্পে বিনিয়োগের উপর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ হিসাব করা হয় এবং পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে মূল টাকা ও সুদের অর্থ পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে সুদের উপরও সুদ যোগ হয়ে মোট রিটার্ন বাড়তে থাকে।
মাত্র ১ হাজার টাকা থেকেই NSC অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারী নিজের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি টাকা জমা রাখতে পারেন। শিশুদের নামেও NSC খোলা সম্ভব। ১০ বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে বাবা বা মা কিংবা আইনসঙ্গত অভিভাবক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারেন।
NSC এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর নির্দিষ্ট পাঁচ বছরের মেয়াদ। বিনিয়োগের পুরো সুবিধা পেতে সাধারণত মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত টাকা রেখে দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের হিসাবের ফলে সময় যত বাড়ে, মোট রিটার্নও তত বাড়তে থাকে।
তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও NSC বন্ধ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে বিনিয়োগকারী কোনও সুদ নাও পেতে পারেন এবং শুধুমাত্র মূল বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। তাই মেয়াদের আগে টাকা তুলে নিলে প্রত্যাশিত রিটার্ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এবার আসা যাক বড় অঙ্কের রিটার্নের হিসাবের দিকে। দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরের জন্য NSC তে এককালীন ১১.৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হলে এবং বার্ষিক ৭.৭ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি সুদ ধরা হলে, পাঁচ বছর শেষে মোট অর্থ প্রায় ১৬.৬৬ লাখ টাকায় পৌঁছতে পারে।
অর্থাৎ, প্রাথমিক ১১.৫০ লাখ টাকার বিনিয়োগের উপর সুদ হিসেবে পাওয়া যেতে পারে প্রায় ৫,১৬,৩৮৯ টাকা। অর্থাৎ মেয়াদ শেষে মোট ফান্ডের একটি বড় অংশই আসবে সুদ থেকে।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সুদের হার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং প্রকৃত ম্যাচিউরিটি মূল্য সংশ্লিষ্ট সময়ে কার্যকর সরকারি সুদের হার ও প্রযোজ্য নিয়মের উপর নির্ভর করবে। তাই বিনিয়োগের আগে পোস্ট অফিসের বর্তমান সুদের হার এবং প্রত্যাহারের নিয়ম যাচাই করে নেওয়া জরুরি।






