উৎসবের মরসুমে ভারতে একের পর এক নতুন আইফোনের ঘোষণা করেছে অ্যাপল। সদ্য ভাঁজ করা আইফোন ডুয়োর ঘোষণা হয়েছে। অক্টোবরের শেষ থেকে এই মডেল বাজারে আসার কথা। পাশাপাশি ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে আইফোন ১৮ প্রো। দুই মডেলের দামই সাধারণ ভারতীয় ক্রেতার নাগালের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তা সত্ত্বেও ভারতের বাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা।
দামের হিসাবে ফারাকটা কতটা
ভাঁজ করা আইফোন ডুয়োর সর্বোচ্চ দাম রাখা হয়েছে ৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯০০ টাকা। অন্য দিকে, আইফোন ১৮ প্রো কিনতে খরচ শুরু হচ্ছে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯০০ টাকা থেকে।
ভারতীয়দের গড় আয়ের সঙ্গে তুলনা করলে এই দাম আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একাধিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক মাথাপিছু গড় আয় প্রায় ২,৮১৩ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৪৭৯ টাকা। অর্থাৎ ভাঁজ করা আইফোন কিনতে একজন ভারতীয়ের গড় বার্ষিক আয়ের প্রায় দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হবে। আইফোন ১৮ প্রো কিনতেও গড় মাসিক আয়ের আট গুণের বেশি টাকা প্রয়োজন।
তার পরেও ভারতকে কেন গুরুত্ব অ্যাপলের
প্রশ্ন উঠছে, যেখানে পশ্চিমি দেশগুলির তুলনায় ভারতের মাথাপিছু আয় অনেক কম, সেখানে অ্যাপল কেন দাম কমিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে আইফোন পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে না?
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ভারতের অর্থনীতির চরিত্রে। পশ্চিমি দেশগুলির তুলনায় ভারতের বাজার অনেক বেশি বৈচিত্রপূর্ণ। আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে দেশের ক্রেতাদের মোটামুটি তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। উচ্চবিত্ত, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষ।
এই তিন শ্রেণির আর্থিক অবস্থার মধ্যেও বড় পার্থক্য রয়েছে। উচ্চবিত্ত ভারতীয়দের ক্রয়ক্ষমতা পশ্চিমের উন্নত দেশের নাগরিকদের সঙ্গে তুলনীয়। অন্য দিকে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক সামর্থ্য তুলনামূলক ভাবে অনেক কম।
আইফোনের আসল বাজার কোন শ্রেণি
অ্যাপলের লক্ষ্য মূলত দেশের উচ্চবিত্ত ক্রেতারা। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ শতাংশ মানুষের আইফোন কেনার মতো ক্রয়ক্ষমতা রয়েছে। সংখ্যার বিচারে এই পাঁচ শতাংশই প্রায় সাত কোটি মানুষ।
অর্থাৎ শতাংশের হিসাবে বাজারটি ছোট হলেও মোট ক্রেতার সংখ্যা বিপুল। আর এখানেই ভারতের বাজারের গুরুত্ব। ব্রিটেন, ফ্রান্স বা ইটালির মতো তুলনামূলক সমৃদ্ধ দেশের বাজারের সঙ্গে ভারতের মাথাপিছু আয় সরাসরি তুলনা করলে ভারতের সম্ভাবনা বোঝা কঠিন। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা এবং উচ্চ ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের মোট সংখ্যা বিবেচনা করলে ছবিটা বদলে যায়।
অ্যাপলের কৌশল তাই দাম কমিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছনোর বদলে নির্দিষ্ট উচ্চ ক্রয়ক্ষমতাসম্পন্ন শ্রেণিকে লক্ষ্য করে এগোনো। দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র পাঁচ শতাংশ হলেও সেই বাজারের আকার প্রায় সাত কোটি। ফলে মাথাপিছু আয় কম হওয়া সত্ত্বেও ভারতের মতো বিশাল বাজারে প্রিমিয়াম আইফোন বিক্রি করে মুনাফা ধরে রাখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে অ্যাপলের।







