টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ। এর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দুর্বল হতে শুরু করেছে নিম্নচাপ। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সেটি আরও শক্তি হারাবে বলে পূর্বাভাস। তবে এর প্রভাব এখনই পুরোপুরি কাটছে না। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতাতেও বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে ১২০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে। আজ সকালেও প্রায় ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং কয়েক দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কাল সকাল পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সতর্কতা
আগামী ২৪ ঘণ্টায় বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান ও হুগলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আগামীকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমবে। ৪ সেপ্টেম্বরের পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আগামী কয়েকদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীকাল উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আগামী দু’দিন উত্তরবঙ্গের বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হলেও পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
কেন এত বৃষ্টি?
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি নিম্নচাপ রেখা বা ট্রাফ রয়েছে। সক্রিয় রয়েছে মৌসুমী অক্ষরেখাও। এই দুই ব্যবস্থার প্রভাবে বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে। তার ফলেই দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে নিম্নচাপ রাজ্য থেকে অনেকটা দূরে সরে যাওয়ায় উত্তর বঙ্গোপসাগর আপাতত শান্ত রয়েছে। নতুন করে ঝড়ো হাওয়া বা দমকা হাওয়ার সতর্কতা নেই। তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপরও নতুন কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প এবং সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর কারণেই স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলেও মেঘের প্রকৃতির কারণে এবার বজ্রপাতের প্রবণতা তুলনামূলক কম।








