আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের যাত্রার ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে রেকর্ড ২০৭টি ম্যাচ খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের চূড়ান্ত ঘোষণা করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে একের পর এক সাফল্যের সাক্ষী হয়েছেন মেসি। তাঁর অবসরের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আবেগের আবহ।
নীল সাদা জার্সিতে প্রায় ২১ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন একাধিক স্মরণীয় সাফল্য। তাঁর নেতৃত্বেই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা। এর পাশাপাশি তাঁর অধিনায়কত্বে দুটি কোপা আমেরিকা খেতাবও জেতে দল।
বিশ্বকাপেও মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার পথচলা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৪ সালে ফাইনালে পৌঁছেও রানার্স আপ হয় আর্জেন্টিনা। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও ফাইনালে উঠে রানার্স আপ হয় দল। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে দেশের জার্সিতে মেসির অবদান তাই আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আবেগঘন বার্তায় মেসি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত কঠিন এবং বেদনাদায়ক ছিল। দেশের হয়ে খেলার প্রতিটি মুহূর্তে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। আর্জেন্টিনার মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং দেশের হয়ে গর্বের মুহূর্ত তৈরি করাই ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
জাতীয় দলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও স্পষ্ট করেছেন মেসি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই অধ্যায় শেষ করে এবার নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। আর্জেন্টিনার ফুটবলে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রতিভাবান তরুণ উঠে আসছে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার যোগ্যতা তাদের রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
মেসির অবসরের সঙ্গে আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল। ২০০৫ সালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, দুই দশকেরও বেশি সময় পর সেই পথচলা শেষ হল বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা জয় এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত কীর্তিকে সঙ্গী করে।








