ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের পর এ বার কি অনলাইন বেটিংয়ের বাজারে নামতে চলেছে মেটা? মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাকে ঘিরে এমনই জল্পনা তুঙ্গে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটার সিইও মার্ক জ়ুকেরবার্গ একটি নতুন অ্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা বাজি ধরতে পারবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন অ্যাপটির সম্ভাব্য নাম রাখা হয়েছে ‘অ্যারেনা’। নিউ ইয়র্ক টাইমস সংস্থার দুই কর্মীর সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হবে, যার কার্যপদ্ধতিতে পলিমার্কেট এবং কালশির মতো প্রেডিকশন মার্কেটের ছাপ থাকবে। তবে মেটা এটিকে সম্পূর্ণ একই ধরনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে না বলেও দাবি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে অ্যাপটিতে পয়েন্ট-ভিত্তিক ভিডিও গেমের সুবিধা থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে বাস্তব অর্থের বিনিময়ে বাজি ধরার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে মেটার তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
বর্তমানে মেটার অধীনে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেসেঞ্জার। সূত্রের খবর, ‘অ্যারেনা’ এই পরিষেবাগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি অ্যাপ হিসেবে কাজ করবে। বিশ্বের ৩৫৬ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। ফলে ভবিষ্যতে এই বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন অ্যাপটির প্রসার ঘটানোর সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পলিমার্কেট ও কালশির মতো প্ল্যাটফর্মে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫,০০০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৬ সালের জুন নাগাদ সেই অঙ্ক বেড়ে প্রায় ১৩,০০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। দ্রুত বাড়তে থাকা এই বাজারই মেটার আগ্রহের অন্যতম কারণ বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশে অনলাইন জুয়া ও সাট্টা সংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর। ফলে যদি ভবিষ্যতে মেটা এই ধরনের কোনও পরিষেবা চালুও করে, তা ভারতের ব্যবহারকারীদের জন্য একইভাবে উপলব্ধ হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নতুন অ্যাপকে ঘিরে সংস্থার আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর থাকবে।






