রাজ্যের অসহায় ও আর্থিকভাবে দুর্বল প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বার্ধক্য ভাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য প্রবীণদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে জীবনের শেষ পর্বে ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। যদিও বর্তমানে নতুন করে আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, তবু কারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য এবং আবেদন করতে কী কী নথি প্রয়োজন, তা জেনে রাখা জরুরি।
কারা আবেদন করার যোগ্য?
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ৬০ বছর হতে হবে। তবে শারীরিক বা মানসিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বয়সের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের ছাড় রয়েছে। অর্থাৎ, তাঁদের বয়স ৫৫ বছর হলেই আবেদন করা সম্ভব।
যাঁদের জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ জানা নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে। শুধুমাত্র জন্মসাল জানা থাকলে ওই বছরের ১ জুলাই এবং জন্মমাস জানা থাকলে সেই মাসের ১৬ তারিখকে জন্মতারিখ হিসেবে ধরা হবে।
আর কী কী শর্ত রয়েছে?
আবেদনকারীকে অন্তত টানা ১০ বছর পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত মাসিক আয় ১,০০০ টাকার বেশি হওয়া চলবে না। এমন কোনও নিকট আত্মীয়ও থাকা যাবে না, যিনি আবেদনকারীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে সক্ষম।
কোন কোন নথি প্রয়োজন?
আবেদন করার সময় আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রত্যয়িত প্রতিলিপি জমা দিতে হয়। প্রশাসনের তরফে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে সমস্ত নথির তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে।
এখন কি আবেদন করা যাবে?
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বার্ধক্য ভাতার জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আপাতত অফলাইন এবং অনলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন করা যাচ্ছে না। তবে এটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়। খুব শীঘ্রই সরকার নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সেই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর ফের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
তাই যাঁরা এই প্রকল্পে আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সরকারের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।






