বাড়িতে রাখা সোনার গয়না শুধু অলঙ্কার হিসেবেই নয়, ভবিষ্যতে নিয়মিত আয়ের উৎসও হতে পারে। এমনই একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ‘গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম’ বা স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্পে বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই নতুন রূপে এই প্রকল্প চালু হতে পারে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ তাঁদের সোনার গয়না সরকারি অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে জমা রাখতে পারবেন। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গয়নার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করার পর আমানতকারীর সম্মতি নিয়ে তা গলিয়ে খাঁটি সোনায় রূপান্তর করা হবে। পরে সেই সোনা ব্যাঙ্কের গোল্ড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে। এর বিনিময়ে আমানতকারী নির্দিষ্ট হারে সুদ পাবেন। মেয়াদ শেষে চাইলে সমমূল্যের সোনা অথবা সেই সময়ের বাজারদর অনুযায়ী নগদ অর্থ নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
এই প্রকল্প প্রথম চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন ন্যূনতম ১০ গ্রাম বিশুদ্ধ সোনা জমা রাখার নিয়ম ছিল এবং জমার কোনও ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি আমানতের সুবিধা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে শুধু স্বল্পমেয়াদি গোল্ড ডিপোজিটের সুবিধাই চালু রয়েছে।
এবার সেই ব্যবস্থাকেই আরও কার্যকর করতে চাইছে কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, সম্প্রতি এই বিষয়ে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আধিকারিক, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং স্বর্ণশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রের এক বর্ষীয়ান মন্ত্রী। সেখানে প্রকল্পকে আরও সহজ এবং জনবান্ধব করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
নতুন মডেলে গয়না ব্যবসায়ীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রাহকরা সরাসরি তাঁদের কাছে গয়না জমা দেবেন। এরপর ব্যবসায়ীরা সেই গয়না শোধনাগারে পাঠিয়ে ব্যাঙ্কে জমার ব্যবস্থা করবেন। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে একদিকে যেমন দেশের সোনার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে অলঙ্কার শিল্পেও গতি আসতে পারে। একইসঙ্গে ঘরে অলস পড়ে থাকা সোনা থেকেও অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ।
যদিও অতীতের অভিজ্ঞতা খুব আশাব্যঞ্জক নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বিপুল পরিমাণ সোনা ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকলেও গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমে অংশগ্রহণের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। গত ১১ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ৩৯ টন সোনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। তাই নতুন কাঠামো মানুষের আস্থা কতটা অর্জন করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।






