সত্তরের দশকে বলিউডে গ্ল্যামারের সংজ্ঞাই যেন বদলে দিয়েছিলেন জিনত আমন। একের পর এক সুপারহিট ছবিতে সাহসী উপস্থিতি তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাই যে তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো তখন ভাবেননি অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপই প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।
জিনতের কথায়, দর্শক এবং ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে বরাবরই সৌন্দর্য আর আবেদনময়ী চেহারার নিরিখে বিচার করেছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর দক্ষতা বা অভিনয়ের পরিসর নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, গ্ল্যামারের আড়ালে চাপা পড়ে গিয়েছিল তাঁর শিল্পীসত্তা।

‘ইয়াদোঁ কি বারাত’, ‘রোটি কাপড়া অউর মকান’ কিংবা ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’-এর মতো ছবিতে তাঁর সাহসী চরিত্র সেই সময় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। কিন্তু সেই প্রসঙ্গেই জিনত বলেন, “আমি খুব অল্প বয়সেই বুঝে গিয়েছিলাম যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আসলে কেবল তারুণ্য আর বাহ্যিক সৌন্দর্যের পূজারি। তাই একজন নারী হিসেবে আমিও নিজের রূপ-লাবণ্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দিনশেষে আমি একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম, ভাঙতে চেয়েছিলাম চেনা গণ্ডি। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, সবাই শুধু আমার চটকদার মুখটা নিয়েই আলোচনা করল, আমার মেধার কদর কেউ করল না।”
শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন তাঁকে একই ধরনের চরিত্রে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ অভিনেত্রীর। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “বলিউড আমাকে বছরের পর বছর ধরে একই ছাঁচে ব্যবহার করেছে। আমার কাজ ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল— পর্দায় একটু নাচ গান করা, বৃষ্টিতে ভেজা, গুটিকয়েক সংলাপ বলা আর ক্লিভেজ প্রদর্শন করা। এর বাইরে কেউ ভাবতেই পারেনি। ফলস্বরূপ, আমার নামের পাশে ‘সেক্স সিম্বল’ তকমাটা এমনভাবে সেঁটে দেওয়া হল যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলেছে।”
বর্তমান সময়ের প্রসঙ্গ টেনে জিনত মনে করেন, চলচ্চিত্র জগতের মানসিকতা বদলানো জরুরি। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে অর্থ ও ক্ষমতার বড় অংশ এখনও পুরুষদের হাতেই। তাই নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর দায়িত্বও তাঁদেরই নিতে হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবার কাজ শুরু করেছেন জিনত আমন। বয়সকে গুরুত্ব না দিয়ে নতুন উদ্যমে অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের সামনে বলিউডের এক অন্য বাস্তবতাও তুলে ধরলেন প্রবীণ এই অভিনেত্রী।








