রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর টলিপাড়ার কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্টুডিয়োপাড়ায় টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের নানা সমস্যার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তাঁর দাবি, স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিল্পী ও কলাকুশলীদের সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেই এই উদ্যোগ।
বিধায়কের তৈরি এই কমিটিতে রয়েছেন অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র, পরিচালক অতনু বসু, চিত্রগ্রাহক সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, শিল্প নির্দেশক উজ্জ্বল সরকার-সহ মোট সাত জন সদস্য। পরিচালনা, অভিনয়, ক্যামেরা, শিল্প নির্দেশনা, ব্যবস্থাপনা ও পরিষেবা— টলিপাড়ার বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিদেরই এই কমিটিতে রাখা হয়েছে।
কমিটি গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পাপিয়া বলেন, ‘‘টালিগঞ্জে খুবই অচলাবস্থা চলছে। ফেডারেশন নেই। যে যেমন খুশি কাজ করছেন। অনেকে কাজ পাচ্ছেন না। স্বরূপ বিশ্বাসের দল এখনও জুলুম করছে। এটা বন্ধ হওয়ার দরকার। সরকার যত ক্ষণ না স্থিতিশীল ব্যবস্থা করছে, তার আগে পর্যন্ত টালিগঞ্জের বিধায়িকা হিসাবে আমি এই পদক্ষেপ করেছি। কারণ যাঁরা আমার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁরা মূলত টালিগঞ্জ এলাকারই বাসিন্দা।’’
সম্প্রতি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরও একটি উপদেষ্টা মণ্ডলী গঠনের কথা জানিয়েছে। তবে সেই উদ্যোগের সঙ্গে এই কমিটির কোনও সম্পর্ক নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন পাপিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘তথ্য সংস্কৃতি দফতর অনেক বড় আকারে পদক্ষেপ করার কথা ভেবেছে। আমি শুধুমাত্র টালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা, যাঁদের মধ্যে কেউ টেকনিশিয়ান, কেউ অভিনেতা, তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছি। এটা আমার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। বিধায়িকা হিসাবে আমার অধিকারের মধ্যে পড়ে। তাই এই পদক্ষেপ করেছি।’’
টলিপাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে নতুন কমিটির সদস্যদের। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।








