১ বছর বিনা বিচারে আটক থেকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার? ‘গুণ্ডা দমন বিল’-এ কী কী ক্ষমতা পাচ্ছে প্রশাসন?

On: Monday, June 29, 2026 7:18 PM
---Advertisement---

সংগঠিত অপরাধ এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হয়েছে নতুন ‘গুন্ডা দমন বিল’। সরকারি নাম **’দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬’**। সরকারের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে অপরাধ দমনে প্রশাসন আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। তবে বিলের একাধিক ধারাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নাগরিক অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিল অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত রয়েছেন বা ভবিষ্যতে যুক্ত হতে পারেন বলে যদি কোনও জেলাশাসক (ডিএম), পুলিশ কমিশনার (সিপি) বা রাজ্য সরকারের নিযুক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও আধিকারিকের মনে হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হল ‘এক্সটার্নমেন্ট’ বা বহিষ্কার। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট জেলা বা এলাকা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। এই সময় তিনি ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিত পুলিশ বা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরা দিতে হতে পারে এবং নিজের গতিবিধির তথ্য জানাতে হবে।

এই বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হল প্রতিরোধমূলক আটক বা প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন। খসড়া অনুযায়ী, জনসুরক্ষার স্বার্থে কোনও ব্যক্তিকে বিচার শুরু হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখা যেতে পারে। যদিও এই আটক অনির্দিষ্টকালের জন্য হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে কয়েকটি অপরাধকে জামিন অযোগ্য এবং গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালাতে, গ্রেফতার করতে এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা পাবে।

শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিই নন, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা আটকাদেশ জারি হওয়ার পর কেউ যদি তাঁকে আশ্রয় দেন বা কোনওভাবে সাহায্য করেন, তা-ও এই আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বিলে ‘সমাজবিরোধী কার্যকলাপ’-এরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, জনশৃঙ্খলা নষ্ট করা, বৈধ ব্যবসা বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনিভাবে সম্পত্তি দখল বা উচ্ছেদ, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি এবং খনি, বালিখাদান, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী পাচারের মতো কাজকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের আওতায় রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে ‘গুন্ডা’ বলতে কাদের বোঝানো হবে, তাও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। নিয়মিত সমাজবিরোধী কাজে যুক্ত ব্যক্তি, অপরাধচক্র বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তি, অস্ত্র আইন, এনডিপিএস আইন, বিস্ফোরক পদার্থ আইন বা অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের এই আইনের আওতায় আনা যেতে পারে।

সরকারের বক্তব্য, সংগঠিত অপরাধ দমনে এই আইন কার্যকর ভূমিকা নেবে এবং আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, সন্দেহের ভিত্তিতে প্রশাসনকে এত বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হলে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পর তার প্রয়োগ কীভাবে হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now