বলিউডে ফিটনেসের কথা উঠলে যে ক’জন অভিনেত্রীর নাম প্রথম সারিতে আসে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম শিল্পা শেট্টি। বয়স পঞ্চাশ পেরোলেও তাঁর শারীরিক সক্ষমতা ও কর্মশক্তি এখনও অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেও ঈর্ষণীয়। কিন্তু এই ফিটনেসের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই, নিয়মিত অনুশীলন এবং জীবনযাত্রায় কঠোর শৃঙ্খলা।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে হরিয়ানার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে নিজের জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন শিল্পা। তিনি জানান, এমন একটা সময় ছিল যখন ঘাড় ঘোরানোও তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। স্পন্ডিলাইটিসের সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগতে হয়েছিল তাঁকে। ব্যথা এতটাই তীব্র ছিল যে দৈনন্দিন অনেক সাধারণ কাজও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
অভিনেত্রীর কথায়, “আমি একটা সময়ে ঘাড় ঘোরাতে পারতাম না, পিছনে ফিরতেও অসুবিধা হত। এখন আমি হেডস্ট্যান্ড করতে পারি। যোগাভ্যাস শুরু করার পর আমার জীবন পুরো বদলে গিয়েছে। যোগ আমাকে শিখিয়েছে যে মানুষের শরীরের চেয়ে মন অনেক বেশি শক্তিশালী।”

শিল্পা জানান, শুরুতে ফিটনেস বা শরীরচর্চার প্রতি বিশেষ আগ্রহ থেকে তিনি যোগব্যায়াম শুরু করেননি। চিকিৎসার অংশ হিসেবেই তাঁর থেরাপিস্ট যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সে সময় নিয়মিত ওষুধ খেতে হত তাঁকে। কিন্তু ধীরে ধীরে যোগের বিভিন্ন কৌশল ও অনুশীলনের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়ার পর শরীরের পরিবর্তন তিনি নিজেই অনুভব করতে শুরু করেন।
বহু বছর ধরেই যোগব্যায়ামের প্রচার করে আসছেন শিল্পা। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তিনি বারবার বলেছেন, সুস্থ জীবন মানেই কঠোর ডায়েট বা জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের উপর বড় প্রভাব ফেলে।
অভিনেত্রীর মতে, সময়মতো ঘুমানো, নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত ও সাধারণ খাবার খাওয়া এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় আলাদা করে রাখা— এই কয়েকটি অভ্যাসই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। তাঁর বিশ্বাস, শরীরকে সুস্থ রাখতে গেলে প্রথমে মনকে প্রস্তুত করতে হয়, আর সেই পথেই তাঁকে নতুন জীবন দিয়েছে যোগাভ্যাস।








