এক সময় পূর্ব ভারতের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা সেই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে ফের সক্রিয় করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, কলকাতাকে আবারও একটি শক্তিশালী আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “কলকাতাকে ফের আর্থিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের পুনরুজ্জীবনে সরকার সহায়তা করার প্রস্তাব করছে। এর ফলে পূর্ব ভারতে পুঁজির সহজলভ্যতা বাড়বে, তালিকাভুক্তি ও লেনদেনের খরচ কমবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।”
সরকারের মতে, ১১৮ বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কার্যকর করা গেলে পূর্ব ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির জন্য পুঁজি সংগ্রহের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির জন্য তালিকাভুক্তির বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের পথ মোটেই মসৃণ নয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে কার্যত কোনও উল্লেখযোগ্য ট্রেডিং কার্যক্রম নেই সিএসই-তে। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার একাধিক আপত্তির জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটে ২০২৩ সালে, যখন Securities and Exchange Board of India পর্যাপ্ত ট্রেডিং কার্যকলাপ, ক্লিয়ারিং এবং সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়ায় সিএসই-র কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এরই মধ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে নিজেদের মর্যাদা থেকে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার আবেদন জানায়। যদিও সেই আবেদনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সেবি।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়, তা নিয়ে আর্থিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ একদিকে রয়েছে কলকাতার ঐতিহাসিক আর্থিক গুরুত্ব ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা। ফলে আগামী দিনে এই উদ্যোগ কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে শিল্প ও বিনিয়োগ মহলের।







