সঞ্চয়ের পাশাপাশি জীবনবিমার সুরক্ষা— এই দুই সুবিধা একসঙ্গে পেতে চাইলে অনেকেই লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (LIC)-এর বিভিন্ন পলিসির দিকে নজর দেন। সেই তালিকায় অন্যতম জনপ্রিয় নাম ‘জীবন লক্ষ্য’ (Jeevan Lakshya)। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তৈরি এই পলিসি এখন অনেক বিনিয়োগকারীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
LIC-এর এই পরিকল্পনা একটি নন-লিঙ্কড এবং পার্টিসিপেটিং লাইফ ইনস্যুরেন্স পলিসি। অর্থাৎ, বাজারের ওঠানামার সঙ্গে সরাসরি এর রিটার্ন যুক্ত নয়। একই সঙ্গে জীবনবিমার সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্দিষ্ট তহবিল গড়ে তোলার সুযোগও দেয় এই প্রকল্প।
পলিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি পলিসিধারীর মৃত্যু ঘটে, তা হলে মনোনীত ব্যক্তি বা আইনি উত্তরাধিকারী নির্ধারিত বিমার অর্থ পাবেন। ফলে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
এই পলিসিতে ন্যূনতম ১ লক্ষ টাকার সম-অ্যাসিউরড নেওয়া যায়। সর্বোচ্চ সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি। পলিসির মেয়াদ ১৩ বছর থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে সম্পূর্ণ মেয়াদের জন্য প্রিমিয়াম জমা দিতে হয় না। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, মোট মেয়াদের তিন বছর কম সময় পর্যন্ত প্রিমিয়াম দিতে হয়।
১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলেই এই পলিসিতে যোগ দেওয়া যায়। প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫০ বছর। তবে পলিসি ম্যাচিওর হওয়ার সময় গ্রাহকের বয়স ৬৫ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক কিংবা বার্ষিক— বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
LIC-এর হিসাব অনুযায়ী, যদি ২৯ বছর বয়সী কোনও ব্যক্তি ১৫ লক্ষ টাকার সম-অ্যাসিউরড নিয়ে ২৫ বছরের জন্য জীবন লক্ষ্য পলিসি নেন, তবে তাঁকে ২২ বছর পর্যন্ত প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ৫,১৬৯ টাকা প্রিমিয়াম দিতে হতে পারে, যা দৈনিক হিসাবে প্রায় ১৭২ টাকার সমান।
বর্তমান বোনাসের হিসাব অনুযায়ী, পলিসির মেয়াদ শেষে ওই ব্যক্তি প্রায় ২৮.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। যদিও চূড়ান্ত প্রাপ্ত অর্থ বোনাসের হার এবং অন্যান্য শর্তের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
আর্থিক পরিকল্পনাকারীদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত সঞ্চয় করতে চাইলে এবং একই সঙ্গে পরিবারকে বিমার সুরক্ষার আওতায় রাখতে চাইলে এই ধরনের পলিসি অনেকের জন্য কার্যকর বিকল্প হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে পলিসির সমস্ত শর্ত, চার্জ এবং সম্ভাব্য রিটার্ন ভালোভাবে বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।







