দেশের ছোট শহর, মফস্বল এবং গ্রামীণ এলাকার ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এটিএম শিল্পের সংগঠন কনফেডারেশন অফ এটিএম ইন্ডাস্ট্রি (CATMi) দাবি করেছে, নগদ সরবরাহে ভারসাম্যহীনতার কারণে দেশের বহু এটিএম পরিষেবা বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে। পরিস্থিতি সামাল না দিলে আগামী দিনে বিপুল সংখ্যক এটিএম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না শিল্পের প্রতিনিধিরা।
সংগঠনের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক State Bank of India। CATMi-এর দাবি, মেট্রো এবং বড় শহরগুলির এটিএমে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নগদ পাঠানো হচ্ছে। ফলে টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরের বহু এটিএমে পর্যাপ্ত নগদ পৌঁছচ্ছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের উপর।
সম্প্রতি Reserve Bank of India এবং SBI-এর সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি তুলে ধরেন এটিএম অপারেটররা। তাঁদের বক্তব্য, দেশের বৃহত্তম এটিএম নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে SBI। প্রায় ৬৫ হাজার এটিএমের মধ্যে একটি বড় অংশে নগদ সরবরাহের দায়িত্ব ব্যাঙ্ক নিজেই সামলায়। কিন্তু সেই ব্যবস্থার ফলে ছোট শহরগুলির এটিএমে নগদের ঘাটতি বাড়ছে।
শুধু সমস্যার সমাধানই নয়, আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গও তুলেছে CATMi। সংগঠনের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতির জেরে অপারেটরদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। সেই কারণেই ব্যাঙ্কিং শিল্পের কাছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
CATMi স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০ জুনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বহু এটিএম পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কারণ, অপারেটরদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই সীমিত মুনাফায় ব্যবসা চালাচ্ছে। তার উপর ক্রমবর্ধমান খরচ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অপারেটরদের দাবি, গত কয়েক বছরে এটিএম পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। অন্যদিকে, নগদ লেনদেনের অভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয় হওয়ায় এটিএম থেকে টাকা তোলার হার কমছে।
পরিসংখ্যানও সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কয়েক বছর আগের তুলনায় মাসিক নগদ উত্তোলনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একই সঙ্গে দেশে এটিএমের মোট সংখ্যাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং ছোট শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগদ অর্থের ব্যবহার কমলেও দেশের বিস্তীর্ণ অংশ এখনও এটিএম পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। তাই ছোট শহর এবং গ্রামীণ অঞ্চলে এটিএম পরিষেবা সংকুচিত হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। এখন নজর SBI এবং RBI কী পদক্ষেপ নেয়, তার দিকেই।







