বিএসএফ-কে জমি দিচ্ছে রাজ্য, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে’, ঘোষণা শুভেন্দুর
উত্তরবঙ্গ সফর সেরে নবান্নে ফিরেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ দ্রুত শেষ করতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা Border Security Force-কে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি দেয়নি। তার ফলেই সীমান্ত নিরাপত্তা দুর্বল হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে রাজ্যের কাছে আগেই জমি চেয়েছিল বিএসএফ। আগের সরকার তা দেয়নি। তাই আমাদের প্রিয় রাজ্য খুব ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।”
তিনি জানান, ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর জন্য জমি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দু’সপ্তাহের মধ্যে জমি বিএসএফ-কে দেওয়া হবে। আমাদের আমলারা জমির একটা অংশ দিয়ে দিতে প্রস্তুত।”
শুভেন্দুর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ২২০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে এখনও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার সম্পূর্ণ হয়নি। তাঁর বক্তব্য, “৫৫৫ কিমি-তে চাইলেই সরকার জমি দিতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তুষ্টিকরণের জন্য দেওয়া হয়নি।”
সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্যও তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশকে দায়ী করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইনশৃঙ্খলাজনিত অপরাধ, লাভ জিহাদ, বলপূর্বক ধর্মান্তর, নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে যে ধরনের অসামাজিক কাজকর্মের বৃদ্ধি আমরা লক্ষ্য করেছি, যাঁরা তার সঙ্গে যুক্ত হিসাবে ধরা পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে বড় অংশ বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।”
এ দিন আরও কড়া অবস্থান নেয় রাজ্য সরকার। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, “সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নন যাঁরা, তাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। তার পর তাঁদের দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে। এই আইন আজ থেকে কার্যকর হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্র আগেই এই বিষয়ে রাজ্যকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। কিন্তু আগের সরকার তা কার্যকর করেনি। তাঁর কথায়, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে এ রাজ্যকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আইন আগের সরকার কাজে লাগায়নি। আমরা কার্যকর করলাম।”
বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকে বিএসএফ-এর তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া ও স্মারকও তুলে দেওয়া হয়। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য ও বিএসএফ-এর মধ্যে নিয়মিত বৈঠক হবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু।








