চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমশই বাড়ছে বলে অর্থনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শত প্রচেষ্টার পরও সেই ব্যবধান কমাতে পারছে না কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকার। তবে এই চাপের মধ্যেই নতুন করে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে অ্যাপ্লের আইফোন রফতানি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিন পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতের বড় অংশ এখনও নির্ভরশীল চিনের উপর। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের একটি বড় অংশই আমদানি করতে হয়। এই কাঠামোগত নির্ভরশীলতাই বাণিজ্য ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত থেকে আইফোন রফতানি বাড়তে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কোটি ডলার মূল্যের স্মার্টফোন চিনে রফতানি হয়েছে, যার বড় অংশই আইফোন। ভারতের বিভিন্ন কারখানায় অ্যাপ্লের ডিভাইস অ্যাসেম্বলিং হওয়ার পর সেগুলি বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে।
বর্তমানে তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকে মোট পাঁচটি কারখানায় অ্যাপ্লের পণ্য উৎপাদন ও সংযোজনের কাজ চলছে। তবে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ এখনও বিদেশ থেকেই আসে, যা ভারতে জুড়ে চূড়ান্ত পণ্য হিসেবে বাজারজাত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় দেশীয় একাধিক সংস্থাও সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত হয়েছে।
বিশ্ব বাজারে রফতানির তালিকায় আইফোনের অন্যতম বড় গন্তব্য এখন চিনও। যদিও সেখানে স্থানীয় উৎপাদন কিছুটা কমেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য টানাপোড়েনের কারণে, যার সুফল পাচ্ছে ভারত। ফলে অ্যাসেম্বলি হাব হিসেবে ভারতের ভূমিকা আরও শক্ত হচ্ছে বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
আইফোন উৎপাদন ও রফতানি ঘিরে দেশে কর্মসংস্থানও বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১.২০ লক্ষ কর্মী সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে বৈদ্যুতিন শিল্পে ভারতের এই অগ্রগতি অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।







