কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না, বরং নিজেই বিতর্ক করে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে—এমনই এক নতুন ধারণা সামনে আনল ‘মিরোফিস’। বহু এআই এজেন্টের সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে তৈরি এই সিস্টেমটি ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে।
সাধারণত ChatGPT বা Gemini-র মতো প্ল্যাটফর্মে একটি এআই মডেলই ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেয়। কিন্তু ‘মিরোফিস’-এর কাঠামো আলাদা। এখানে একাধিক এআই এজেন্ট একসঙ্গে কাজ করে, এবং প্রত্যেকের আলাদা ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকে।
ব্যবহারকারী কোনও সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তথ্য দিলে, সেটিকে কেন্দ্র করে প্রথমে একটি ‘নলেজ গ্রাফ’ তৈরি হয়। এরপর বিভিন্ন এআই এজেন্ট সেই তথ্য বিশ্লেষণ করতে শুরু করে। কেউ তথ্যভিত্তিক যুক্তি দেয়, কেউ পাল্টা প্রশ্ন তোলে, আবার কেউ সমালোচনার সুর তোলে। ফলে গোটা প্রক্রিয়াটি অনেকটা বাস্তবের আলোচনা সভার মতো হয়ে ওঠে।
এই সিস্টেমের বিশেষ দিক হল, এজেন্টদের মধ্যে মতবিরোধও তৈরি হয়। তর্ক-বিতর্ক চলতে চলতেই তারা বিষয়টির নানা দিক খতিয়ে দেখে। পাশাপাশি, আধুনিক সমাজমাধ্যমের প্রভাব মাথায় রেখে ‘পোস্টিং কালচার’-ও এতে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এজেন্টরা নিজেদের মতামত পোস্ট ও রিপোস্ট করতেও পারে।
সবশেষে একটি নির্দিষ্ট এজেন্ট—যাকে ‘রিপোর্ট এজেন্ট’ বলা হয়—সমস্ত আলোচনা বিশ্লেষণ করে একটি চূড়ান্ত মতামত দেয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত যদি সন্তোষজনক না মনে হয়, তাহলে সিস্টেমটি আবার নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু করতে পারে। অর্থাৎ, এখানে উত্তর একবারেই স্থির হয়ে যায় না।
এই নতুন ভাবনার পিছনে রয়েছেন গুয়ো হাংজিয়াং, যিনি বেজিং বিশ্ববিদ্যালয়-এর তরুণ ছাত্র। জানা গিয়েছে, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তিনি এই সিস্টেম তৈরি করেন। প্রচলিত কোডিংয়ের বদলে ‘ভাইব কোডিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজ নির্দেশের মাধ্যমেই পুরো কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে।
এটাই তাঁর প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগে ‘বেটাফিস’ নামের একটি এআই ইঞ্জিন তৈরি করেছিলেন তিনি, যা সমাজমাধ্যমের প্রবণতা ও মানুষের আবেগ বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তার প্রয়োগ রয়েছে।
‘মিরোফিস’-এর মাধ্যমে এআই ব্যবহারের এক নতুন দিক সামনে এল—যেখানে একক উত্তর নয়, বরং বহু মতের সংঘর্ষ থেকে তৈরি হয় চূড়ান্ত বিশ্লেষণ। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে জটিল সামাজিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণে এই ধরনের সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।








