ভারতের শিল্পজগতের অন্যতম পরিচিত নাম টাটা গোষ্ঠী-কে ঘিরে নতুন জল্পনা—তারা নাকি এবার স্মার্টফোনের বাজারে নামতে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রযুক্তি মহল, সর্বত্র ছড়িয়েছে এই খবর। এমনকি সম্ভাব্য ফোনের নাম ‘এ-ওয়ান’ বলেও দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু এই দাবির ভিত্তি কতটা শক্ত?
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি সত্যিই টাটা স্মার্টফোন তৈরি শুরু করে, তা হলে বাজারে বড়সড় প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। কারণ, দেশের ক্রেতাদের এক বড় অংশের মধ্যে টাটা ব্র্যান্ডের প্রতি দীর্ঘদিনের আস্থা রয়েছে। সেই সঙ্গে তুলনামূলক কম দামে নির্ভরযোগ্য ডিভাইস আনতে পারলে তা বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত Samsung বা Apple-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি টক্করের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ।
তবে বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের কথায়, টাটা গোষ্ঠী এখনও পর্যন্ত নিজস্ব ব্র্যান্ডে স্মার্টফোন আনার কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। শুধু তা-ই নয়, একটি নতুন স্মার্টফোন বাজারে আনতে যে ধরনের গবেষণা, উৎপাদন পরিকাঠামো এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রয়োজন, সেই দিকেও এখনও দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ নেই। ফলে এই মুহূর্তে গোটা বিষয়টিকে গুজব হিসেবেই দেখছেন প্রযুক্তি মহলের বড় অংশ।
তবে এই জল্পনার পেছনে একটি বাস্তব কারণ রয়েছে। গত কয়েক বছরে Apple-এর আইফোন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টাটা গোষ্ঠী। দেশে বিভিন্ন কারখানায় আইফোনের অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই অনেকের ধারণা, টাটা হয়তো নিজস্ব স্মার্টফোন তৈরির দিকেও এগোচ্ছে। যদিও সংস্থার তরফে এমন কোনও পরিকল্পনার ইঙ্গিত এখনও মেলেনি।
প্রসঙ্গত, প্রযুক্তি দুনিয়ায় এর আগেও এমন জল্পনা ছড়িয়েছে। কিছুদিন আগে Tesla-র তরফে স্মার্টফোন আনার খবর প্রকাশ্যে আসে। দাবি করা হয়, সংস্থার প্রধান ইলন মাস্ক নাকি ‘পাই’ নামে ফোন আনতে চলেছেন। পরে অবশ্য সেই সব খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয় টেসলা।
সব মিলিয়ে, টাটা স্মার্টফোন নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও এখনই বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে ‘এ-ওয়ান’ শুধুই বাজারের গুঞ্জন।








