পশ্চিম এশিয়ায় টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই ফের সরাসরি যোগাযোগ দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ফোনে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র সঙ্গে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলে এই কথোপকথন, যা ঘিরে কূটনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা।
ফোনালাপের পরেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন মোদী। তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
মোদীর কথায়, “আমার বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পেয়েছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার যে উন্নতি হয়েছে, তা নিয়ে কথা হয়েছে।” তিনি আরও লেখেন, “দুনিয়ার সব ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা আরও মজবুত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হরমুজ় প্রণালীর প্রসঙ্গ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খোলা রাখা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়েছে। হরমুজ় খুলে রাখা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।”
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূত সার্জিয়ো গোর এই কথোপকথন নিয়ে বলেন, “কিছু ক্ষণ আগে দু’জনের কথা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় কী চলছে, তা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে কিছু বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২৪ মার্চ দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কথা হয়েছিল। সে সময় ভারত পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত শান্তি ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেছিল। সেই আলোচনাতেও হরমুজ় প্রণালীর গুরুত্ব উঠে এসেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির পটভূমিতে এই ফোনালাপের তাৎপর্য আরও বেড়েছে। ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহেও। ভারতের মতো দেশ, যারা পশ্চিম এশিয়ার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তাদের জন্য হরমুজ় প্রণালীর পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রেক্ষাপটে মোদী-ট্রাম্পের এই সরাসরি কথোপকথন ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।





