দেশে সিসিটিভি ক্যামেরার বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে কেন্দ্র সরকার এমন একটি নিয়ম চালু করতে চলেছে, যার ফলে চিনা সংস্থার তৈরি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নজরদারি সরঞ্জামের বিক্রিতে কার্যত বাধা তৈরি হতে পারে।
সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন এই বিধির ফলে বাজারে থাকা একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ড—বিশেষ করে চিনা সংস্থাগুলি—চাপের মুখে পড়বে। এর মধ্যে হিকভিশন, দাহুয়া, টিপি-লিঙ্কের মতো সংস্থার নামও উঠে আসছে। যদিও সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেনি, তবু প্রশাসনিক মহলে এই নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রের যুক্তি, দেশের সাইবার নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, বিদেশি—বিশেষত চিনা—ইলেকট্রনিক নজরদারি যন্ত্রের মাধ্যমে তথ্য ফাঁস বা নজরদারির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এই প্রেক্ষাপটে চালু হতে চলেছে ‘স্ট্যান্ডার্ডাইজ়েশন টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি সার্টিফিকেশন’ বা এসটিকিউসি নামের একটি নতুন বাধ্যতামূলক মান যাচাই প্রক্রিয়া। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা বা ভিডিও নজরদারি ডিভাইস বিক্রি করতে গেলে আগে সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হলে কোনও ডিভাইস বাজারে আনা যাবে না।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নিয়ম শুধুমাত্র চিনা সংস্থার জন্য নয়—ভারতে ব্যবসা করা সব সিসিটিভি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মান যাচাই প্রক্রিয়াই চিনা সংস্থাগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এর আগে টেলিকম ক্ষেত্রেও চিনা সরঞ্জাম নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল কেন্দ্র। গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য চুরির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নজরদারি যন্ত্রের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নতুন এই নীতি কার্যকর হলে দেশের সিসিটিভি বাজারে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার কতটা কঠোর অবস্থান নেয়, এখন সেটাই দেখার।








