উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি অনুকূল আবহাওয়ার পরিস্থিতির জেরে ফের সক্রিয় হচ্ছে বর্ষা। উত্তর ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূল সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আগামী তিন দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ১৪ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী বৃষ্টি হিসেবে ধরা হয়। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বরও আবহাওয়ার বিশেষ উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দমকা হাওয়া বইতে পারে। হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
তবে বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজ্যের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এক বা দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নিচু এলাকা এবং জল জমার প্রবণতা রয়েছে এমন জায়গায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
কেন ফের বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে একটি নিম্নচাপ এলাকার কেন্দ্র থেকে রাজগড়, দমোহ, পেন্দ্রা রোড, রাউরকেলা ও দিঘার উপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এর পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের উপর একটি ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ থেকে ৩.১ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এই ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবেই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
অর্থাৎ আগামী দু’দিন বৃষ্টি চললেও ১৭ সেপ্টেম্বরই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ফলে ওই দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের আবহাওয়ার দিকে বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।







