সোমবার বিধানসভায় পেশ হবে ‘গুণ্ডা দমন বিল’! রাজ্যে এই আইন লাগু হলে কী হবে?

On: Saturday, June 27, 2026 10:10 PM
---Advertisement---

অপরাধ, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং বেআইনি সম্পত্তির বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। রাজনৈতিক মহলে এটি ইতিমধ্যেই ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান।

বিধানসভা সূত্রের খবর, বিলটি আইনে পরিণত হলে অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতাও বাড়ানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অতীতেও বারবার অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল জমানায় বহু নেতা ও জনপ্রতিনিধি বেআইনিভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি আগেই বলেছিলেন, ‘‘কাউকে ছাড়া হবে না’’। সরকারের দাবি, নতুন বিল সেই অবস্থানেরই আইনি রূপ।

বিলের খসড়া অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কার্যকলাপ যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে, তবে তা সমাজবিরোধী কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর আওতায় রাখা হয়েছে তোলাবাজি, বেআইনি জমি দখল, সিন্ডিকেট কার্যকলাপ, ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, অবৈধ খনি বা বালি উত্তোলন, বন ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতিসাধনের মতো একাধিক অপরাধ।

প্রস্তাবিত বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও আলাদা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি নিজে বা কোনও গ্যাং, সিন্ডিকেট বা সংগঠিত দলের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁকে এই আইনের অধীনে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। অস্ত্র আইন, মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত আইন, বিস্ফোরক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট গুরুতর ধারায় অভিযুক্তদেরও এই আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। এমনকি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই সম্ভাব্য অপরাধ রুখতে প্রশাসন পদক্ষেপ করতে পারবে বলেও বিলের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় কমিশন প্রয়োজন মনে করলে প্রকৃত ক্ষতির অঙ্কের দ্বিগুণ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা ধার্য করতে পারবে বলেও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তবে এই বিলকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই আইন সরকারের সমালোচক এবং বিরোধী আন্দোলন দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাদের দাবি, এটি একটি ‘কালা কানুন’। অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সংগঠিত অপরাধ দমন এবং অপরাধলব্ধ সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই এই আইন আনা হচ্ছে।

এখন নজর সোমবারের বিধানসভা অধিবেশনের দিকে। বিলটি পাস হলে কবে থেকে তা কার্যকর হবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও আইন বিশেষজ্ঞরা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now