কল্পবিজ্ঞানের গল্পে এতদিন যে দৃশ্য দেখা যেত, এবার তারই বাস্তব রূপ দেওয়ার চেষ্টা। পেট্রল, ডিজেল বা বিমানের জ্বালানি ছাড়াই আকাশে উড়তে পারে এমন একটি বৈদ্যুতিক যান তৈরি করেছেন উত্তরাখণ্ডের এক তরুণ। ইতিমধ্যেই তার প্রোটোটাইপের পরীক্ষামূলক উড়ান সফল হয়েছে বলে দাবি নির্মাতাদের।
উত্তরাখণ্ডের অলমোড়ার কাফলিখান গ্রামের বাসিন্দা রবি তামতা এবং তাঁর স্টার্টআপ সংস্থা ‘হাপিদা স্কাই প্রাইভেট লিমিটেড’ তৈরি করেছেন এই ব্যক্তিগত উড়ন্ত যান। ‘হাপিদা স্কাইনেক্স’ নামের এই যানটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।
কী ভাবে আলাদা এই উড়ন্ত যান?
বর্তমানে বিমান বা অধিকাংশ প্রচলিত আকাশযানে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। আবার কিছু পরীক্ষামূলক উড়ন্ত যান বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ইথানল ব্যবহার করে। হাপিদা স্কাইনেক্সের ক্ষেত্রে সেই প্রয়োজন নেই।
সংস্থার দাবি, যানটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলবে। ফলে জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন না থাকায় প্রচলিত জ্বালানিচালিত যানবাহনের মতো ধোঁয়া নির্গমনের বিষয়টিও থাকবে না। সেই কারণেই ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত আকাশযাত্রার ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক পরিবেশবান্ধব বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই মুহূর্তে এটিকে সরাসরি প্রচলিত গাড়ি বা বিমানের বিকল্প বলা যাচ্ছে না। কারণ হাপিদা স্কাইনেক্স এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে।
বহু বছরের গবেষণার পর সাফল্য
রবি তামতা ও তাঁর দলের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল এই প্রোটোটাইপ। পরীক্ষামূলক উড়ান সফল হওয়ায় প্রকল্পটি আরও এক ধাপ এগিয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
রবির কথায়, “এই প্রকল্পের লক্ষ্যই হল দেশের মধ্যে নিরাপদ, কম খরচে পরিবেশবান্ধব ব্যক্তিগত বিমান চলাচলকে সহজলভ্য করে তোলা।”
তাঁর দাবি, এই যান তৈরির পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং পরিশ্রম। ভারতীয় স্টার্টআপগুলিও যে উন্নত পরিবহণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সক্ষমতা তৈরি করছে, এই প্রকল্প তার একটি উদাহরণ বলেও মনে করছেন তিনি।
এখনই কি আকাশে উড়বে এই গাড়ি?
সেখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। প্রোটোটাইপের পরীক্ষামূলক উড়ান সফল হলেও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য যানটি এখনও প্রস্তুত নয়।
বাণিজ্যিক ভাবে বাজারে আনার আগে আরও একাধিক পরীক্ষার প্রয়োজন হবে। নিরাপত্তা, উড়ানের সক্ষমতা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।
অর্থাৎ, আপাতত হাপিদা স্কাইনেক্সকে ভবিষ্যতের ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক উড়ন্ত যান তৈরির একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি সফল ভাবে আরও উন্নত করা গেলে আগামী দিনে শহরের যানজট এড়িয়ে ব্যক্তিগত আকাশযাত্রার ধারণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।







