আধার কার্ডধারীদের জন্য নতুন সুবিধা চালু করল ভারতের ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)। এবার থেকে আধারের সঙ্গে ই-মেল আইডি যোগ করা বা পুরনো ই-মেল পরিবর্তন করার জন্য আর আধার সেবা কেন্দ্রে যেতে হবে না। এই কাজ এখন সরাসরি আধার মোবাইল অ্যাপ থেকেই করা যাবে, তাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
UIDAI জানিয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই পরিষেবা চালু হয়েছে এবং আগামী ছয় মাস পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা কোনও অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এই সুবিধা পাবেন। আধারের তথ্য আপডেটের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ এবং ডিজিটাল করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন পরিষেবা চালু হওয়ার পর থেকেই ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পরিষেবা শুরু হওয়ার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই আড়াই লক্ষেরও বেশি মানুষ অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের ই-মেল আইডি আপডেট করেছেন।
কেন আধারের সঙ্গে ই-মেল যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ?
UIDAI-এর দাবি, আধারের সঙ্গে ই-মেল সংযুক্ত থাকলে নিরাপত্তা আরও বাড়বে। আধার নম্বর ব্যবহার করে যখনই কোনও অথেনটিকেশন হবে, তখনই ব্যবহারকারীর ই-মেলে সঙ্গে সঙ্গে একটি নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে। ফলে আধারের কোনও অননুমোদিত ব্যবহার হলে তা দ্রুত জানা সম্ভব হবে এবং প্রতারণার ঝুঁকিও কমবে।
জনপ্রিয় হচ্ছে আধার অ্যাপ
নতুন সংস্করণের আধার অ্যাপ চালুর পাঁচ মাসের মধ্যেই ৩.১ কোটিরও বেশি মানুষ এটি ডাউনলোড করেছেন। একই সময়ে ৪০ লক্ষের বেশি ব্যবহারকারী অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল নম্বর আপডেট করেছেন। প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ঠিকানাও পরিবর্তন করেছেন এই অ্যাপ ব্যবহার করে।
শুধু ই-মেল নয়, মিলছে আরও একাধিক সুবিধা
আধার অ্যাপে এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা অ্যাপ থেকেই মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা আপডেট করতে পারবেন। ফেস অথেনটিকেশনের মাধ্যমে কাগজপত্র ছাড়াই পরিচয় যাচাই করা সম্ভব। এছাড়া এনক্রিপ্টেড QR কোডের সাহায্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা যায়, ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও আরও জোরদার হয়।
অ্যাপ থেকেই বায়োমেট্রিক লক বা আনলক করার সুবিধাও রয়েছে, যা আধারের অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া e-Aadhaar ডাউনলোড, Authentication History দেখা, Aadhaar Seva Kendra-তে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং এবং Offline Verification Seeking Entity (OVSE)-এর QR কোড স্ক্যান করে দ্রুত পরিচয় যাচাইয়ের মতো পরিষেবাও পাওয়া যাচ্ছে।
UIDAI-এর মতে, এই QR কোডভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা হোটেলে চেক-ইন, হাসপাতালে ভর্তি, ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট এবং গিগ ওয়ার্কার অনবোর্ডিংয়ের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ফিজিক্যাল আধার কার্ড বহনের প্রয়োজন কমবে এবং পরিচয় যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াই আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে।






