স্মার্টফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্য সস্তা করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। একাধিক আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের উপর থেকে শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদন খরচ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এখনই বাজারে ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম কমে যাবে।
সরকারের সিদ্ধান্তে ডিসপ্লের বিভিন্ন উপাদান, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কিছু অংশ, ইন্ডাক্টর এবং মোটর কয়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের উপর আমদানি শুল্ক আর থাকবে না। যেহেতু এই উপাদানগুলির অনেকটাই বিদেশ থেকে আসে, তাই উৎপাদন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাহলে দাম কমছে না কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে স্মার্টফোন শিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদন খরচ নয়, বরং সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের ঘাটতি।
বিশ্বের অন্যতম চিপ প্রস্তুতকারী সংস্থা SK Hynix-এর সিইও কোয়াক নোহ-জং জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের আগে এই সংকট পুরোপুরি কাটার সম্ভাবনা কম। তাঁর মতে, চিপের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য ফিরতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
AI-ই বাড়াচ্ছে চাপ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে উন্নত মেমোরি চিপ ও সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। ফলে SK Hynix, Samsung-এর মতো সংস্থাগুলি AI-সম্পর্কিত প্রকল্পে বেশি চিপ সরবরাহ করছে। এর প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স নির্মাতাদের উপর।
এর ফলে র্যাম এবং মেমোরি চিপের দাম বেড়েছে, যা সরাসরি স্মার্টফোনের উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে।
iPhone-এর দামও বাড়তে পারে
চিপের সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই বড় সংস্থাগুলির উপর পড়তে শুরু করেছে। Apple ভবিষ্যতে iPhone-এর দাম বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। এই খবর সামনে আসার পর বাজারে থাকা iPhone 16 এবং iPhone 17 সিরিজের চাহিদাও বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
অর্থাৎ, আমদানি শুল্ক কমানো দীর্ঘমেয়াদে ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও, চিপ সংকট না কাটলে অদূর ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং আগামী কয়েক বছরে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞদের একাংশ।






