কলকাতা: পকেটে থাকা ১০, ২০ কিংবা ৫০০ টাকার নোট ছিঁড়ে গেলে বা খুব ময়লা হয়ে গেলে অনেক সময় দোকানদার, বাসের কন্ডাক্টর বা অটোচালক তা নিতে চান না। ফলে সাধারণ মানুষকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। তবে এমন নোট যে সম্পূর্ণ মূল্যহীন হয়ে যায়, তা নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই ধরনের নোট বদলে নেওয়া যায়।
RBI-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি বা বেসরকারি—যে কোনও ব্যাঙ্কের শাখায় ছেঁড়া, ময়লা বা পুরোনো নোট জমা দিয়ে বদলানোর আবেদন করা যায়। কোনও ব্যাঙ্কই শুধু নোটের অবস্থার কারণে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করতে পারে না। এই পরিষেবার জন্য কোনও ফি দিতে হয় না। এমনকি নোট বদলাতে গেলে ওই ব্যাঙ্কের গ্রাহক হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়।
তবে সব ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত নোট ব্যাঙ্কে বদলানো যায় না। কোনও নোট যদি জলে ভিজে একসঙ্গে লেগে যায়, গুরুতরভাবে পুড়ে যায় বা এমন অবস্থায় পৌঁছে যে তার প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন, তাহলে সেটি সরাসরি ব্যাঙ্ক শাখায় বদলানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে নোটটি RBI-র ইস্যু অফিসে জমা দিতে হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা নোট পরীক্ষা করে কত টাকা ফেরত দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেন।
নোট বদলে কত টাকা মিলবে, তা নির্ভর করে নোটের কতটা অংশ অক্ষত রয়েছে তার উপর। যদি নোটের বেশিরভাগ অংশ অক্ষত থাকে, তাহলে পুরো মূল্য ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে। উদাহরণ হিসেবে, ১০০, ২০০ বা ৫০০ টাকার নোটের ৮০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলে সাধারণত সম্পূর্ণ মূল্য দেওয়া হয়।
অন্যদিকে নোটের অক্ষত অংশ যদি ৪০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নোটের মূল মূল্যের অর্ধেক ফেরত দেওয়া হতে পারে। এর চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই নোট আর গ্রহণযোগ্য থাকে না।
তবে কিছু ক্ষেত্রে কোনও অবস্থাতেই নোট বদলানো যায় না। যেমন, সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া নোট, ইচ্ছাকৃতভাবে লেখা বা আঁকা নোট, রাজনৈতিক স্লোগান বা ধর্মীয় প্রতীক লেখা নোট এবং ক্রমিক নম্বর (Serial Number) স্পষ্টভাবে না থাকা নোট সাধারণত ব্যাঙ্ক গ্রহণ করে না।
তাই ছেঁড়া বা ময়লা নোট হাতে এলে তা ফেলে না দিয়ে RBI-র নিয়ম অনুযায়ী ব্যাঙ্কে বদলানোর সুযোগ রয়েছে কি না, তা আগে যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।







