দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করী। ই-২০ জ্বালানি নিয়ে বিতর্কের আবহেই তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যানজট কমাতে আকাশপথভিত্তিক পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে নজর দিচ্ছে কেন্দ্র। এরিয়াল পড বা eVTOL প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘উড়ন্ত বাস’ চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গড়করী বলেন, শহরাঞ্চলে দ্রুত, আধুনিক এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নতুন প্রযুক্তির উপর জোর দিচ্ছে। তাঁর মতে, এরিয়াল পড-ভিত্তিক পরিবহণ ব্যবস্থা চালু হলে ব্যস্ত শহরগুলিতে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
যদিও এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত কাঠামো বা কবে থেকে পরিষেবা শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
গড়করী জানান, এর আগে সি-প্লেনের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও এখন হাইপারলুপ, কেবল বাস, ফিউনিকুলার রেলপথ এবং এরিয়াল পড ট্রানজিটের মতো প্রযুক্তিও সরকারের পরিকল্পনার অংশ।
সরকারের ভাবনায় থাকা স্কাই ট্রানজিট পড সিস্টেম প্রথম পর্যায়ে দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে শহরের একাধিক ব্যস্ত রুটে যানজট কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু উড়ন্ত পরিবহণ নয়, দ্রুত চার্জ হওয়া বৈদ্যুতিক বাস নিয়েও কাজ চলছে। গড়করীর দাবি, ১৩৫ আসনের এক্সিকিউটিভ ক্লাস ফ্ল্যাশ-চার্জিং ইলেকট্রিক বাসের পরীক্ষামূলক ট্রায়াল চলছে। নাগপুরের মতো শহরে এই বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাসটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১২৯ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং মাত্র ৩০ সেকেন্ডে চার্জ সম্পূর্ণ করার প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে।
তবে এই সমস্ত প্রকল্প এখনও পরিকল্পনা ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। কবে নাগাদ সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা চালু হবে বা কোন শহরে প্রথম বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।







