ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং যত জনপ্রিয় হচ্ছে, ততই বাড়ছে সাইবার প্রতারণার ঘটনাও। ফোনে প্রতারণামূলক কল, ভুয়ো লিঙ্কে ক্লিক করিয়ে অ্যাকাউন্ট খালি করে দেওয়ার মতো ঘটনায় প্রতিদিনই বহু মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের সুরক্ষা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের গাফিলতির কারণে গ্রাহক প্রতারণার শিকার হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে।
আরবিআই জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা, সন্দেহজনক লেনদেনের সতর্কবার্তা পাঠানো, ২৪ ঘণ্টার অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। এই ধরনের অবহেলার ফলেই অনেক গ্রাহক বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই ব্যাঙ্কগুলিকে আরও দায়বদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং একক মালিকানাধীন ব্যবসার অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনায় গ্রাহক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। আরবিআইয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে ক্ষতির ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ মিলতে পারে।
তবে এই সুবিধা পেতে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। প্রতারণার ঘটনা ঘটার পাঁচ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক এবং জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানানো বাধ্যতামূলক। এরপর ব্যাঙ্ক তদন্ত করবে। তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে গ্রাহকের অসাবধানতার পাশাপাশি ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিও ছিল, তা হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আরবিআই জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণের বড় অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বহন করবে। কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককেও নির্দিষ্ট অংশের অর্থ ফেরত দিতে হবে। এর ফলে সাইবার প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নতুন নিয়ম ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবার মাধ্যমে হওয়া ডিজিটাল লেনদেন এই নির্দেশিকার আওতায় থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে শুধু গ্রাহক সুরক্ষাই বাড়বে না, ব্যাঙ্কগুলিকেও ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বাধ্য করবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও সতর্ক থেকে অনলাইন লেনদেন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতারণার ঝুঁকি কমানো যায়।






