অনেকের বাড়িতেই এখনও ২,০০০ টাকার নোট পড়ে রয়েছে। তবে এই নোট নিয়ে বিভ্রান্তিরও শেষ নেই। অনেকেই মনে করছেন, নোটটি আর বৈধ নয় বা কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি তা নয়। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) স্পষ্ট জানিয়েছে, ২,০০০ টাকার নোট এখনও বৈধ মুদ্রা হিসেবেই গণ্য হয়। যদিও সাধারণ ব্যাঙ্কে এই নোট জমা বা বদলের পরিষেবা আর নেই, তবু নির্দিষ্ট উপায়ে এখনও তা জমা বা বদল করা সম্ভব।
RBI-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৯ মে ২,০০০ টাকার নোট বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে অধিকাংশ নোটই ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হিসাব বলছে, বাজারে থাকা মোট ২,০০০ টাকার নোটের ৯৮.৪৭ শতাংশ ইতিমধ্যেই ফেরত এসেছে।
প্রত্যাহারের সময় বাজারে ২,০০০ টাকার নোটের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৩.৫৬ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সেই অঙ্ক কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫,৪৫১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, এখন খুব অল্প সংখ্যক ২,০০০ টাকার নোটই প্রচলনে রয়েছে।
যাঁদের কাছে এখনও এই নোট রয়েছে, তাঁদের জন্য RBI কয়েকটি বিকল্প খোলা রেখেছে। দেশের ১৯টি RBI Issue Office-এর যে কোনও একটিতে গিয়ে নোট বদল করা যাবে। একই সঙ্গে ওই অফিসে গিয়ে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি নোট জমাও করা সম্ভব। এছাড়া ইন্ডিয়া পোস্টের মাধ্যমে RBI Issue Office-এ নোট পাঠিয়েও নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করানো যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে সাধারণ ব্যাঙ্ক শাখায় ২,০০০ টাকার নোট জমা বা বদলের পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। তবে RBI এখনও এই সংক্রান্ত পরিষেবা চালু রেখেছে।
মুদ্রা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে ২০২৩ সালে ২,০০০ টাকার নোট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে নোটটি নতুন করে ইস্যু করা না হলেও, তার বৈধতা এখনও বহাল রয়েছে। তাই কারও কাছে যদি এই নোট থেকে থাকে, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। RBI-এর নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে এখনও সেই নোট জমা বা বদল করা যাবে।






