পাঁচ বছর আগের একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ফের টেনে আনল রাজনৈতিক উত্তাপ। অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন আইনজীবী জয়দীপ সেন। অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর তাঁদের সমাজমাধ্যমে করা মন্তব্য রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসায় উসকানি দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার দায়ের হওয়া ওই অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন অর্থাৎ ২ মে পরমব্রত একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছিলেন। পরে সেই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সমর্থনসূচক মন্তব্য করেন স্বস্তিকা। অভিযোগকারী আইনজীবীর বক্তব্য, সেই মন্তব্যগুলিই রাজনৈতিক হিংসার পরিবেশকে আরও উস্কে দেয়।
জয়দীপ সেন বলেন, “পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় অভিযোগ ইতিমধ্যেই দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের মন্তব্য বিজেপি কর্মীদের খুন, বিজেপি মহিলা কর্মীদের ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি এবং ২০২১-এ তৃণমূল কংগ্রেস দ্বারা সংঘটিত হিংসায় প্ররোচনা জুগিয়েছিল।”
আইনজীবীর দাবি, সমাজে পরিচিত এবং প্রভাবশালী মুখ হওয়ায় তাঁদের বক্তব্য সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলেছিল। সেই সময় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং নারীদের উপর অত্যাচারের ঘটনাগুলির সঙ্গে ওই মন্তব্যের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত পরমব্রত বা স্বস্তিকার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনাচক্রে, এই অভিযোগ সামনে আসার ঠিক এক দিন আগেই টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োয় একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরমব্রত। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের ডাকা ওই বৈঠকে ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে অতীতের একটি বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে পরমব্রত বলেন, “সে দিন আমার সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে সবটা করেছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না, তাই। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদ্গারের জন্য এখানে আসিনি। কিন্তু আপনাদের যেহেতু বাড়ির লোক ভাবি, সেই জন্য ব্যক্তিগত অপমানের কথাটা ভাগ করে নিলাম। ভবিষ্যতে যেন এ রকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়।”
রাজনৈতিক মেরুকরণ, সমাজমাধ্যমে তারকাদের বক্তব্য এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা— এই তিনটি বিষয় নতুন করে আলোচনায় উঠে এল এই অভিযোগকে ঘিরে। এখন দেখার, পুলিশের তরফে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।







