যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ নিয়ে স্বাস্থ্য ভবন ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ₹৫ লক্ষ পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে।
স্বাস্থ্য ভবনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ইতিমধ্যেই ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হলেও যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁরাই মূলত এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সরকারের দাবি, ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে যাতে কোনও পরিবার আর্থিক সংকটে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে একাধিক শর্তও রাখা হয়েছে। যে পরিবারের বার্ষিক আয় ₹৮ লক্ষের বেশি, তারা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবে না। এছাড়া ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম ২০০৮, সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হেলথ স্কিম (CGHS), ইএসআই (ESI) বা কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং এবং স্বশাসিত সংস্থার স্বাস্থ্যবিমা সুবিধাভোগীরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। নিয়মিত চিকিৎসা ভাতা পান এমন ব্যক্তিরাও এর বাইরে থাকবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ৭০ বছরের বেশি বয়সি নাগরিক এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে যাঁদের সিএএ বা এসআইআর ট্রাইবুনালে আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাঁরা এই স্বাস্থ্যবিমার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, চিকিৎসার সমস্ত পরিষেবা ক্যাশলেস পদ্ধতিতে দেওয়া হবে। অর্থাৎ রোগীকে আগে নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে ফেরত নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা থাকবে না। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যবিমা কার্ডও দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগে থেকে থাকা বিভিন্ন অসুস্থতাও এই বিমার আওতায় রাখা হয়েছে।
পুরো প্রকল্পটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আবেদন থেকে শুরু করে হাসপাতালে ভর্তি, ছুটি এবং পরিচয় যাচাই—সব ক্ষেত্রেই আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক বা ডিজিটাল ভেরিফিকেশন এবং আভা (ABHA) আইডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রোটোকলও আয়ুষ্মান ভারত যোজনার নির্দেশিকা অনুসরণ করেই কার্যকর হবে।
এর আগে রেজিনগরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘‘আয়ুষ্মান ভারত যাঁরা পাবেন না, তাঁরা পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এই প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে। এই কার্ডের সুবিধা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও যাতে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার।’’
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু হলেও নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্তের কারণে বহু মানুষ সেই প্রকল্পের বাইরে থেকে গিয়েছেন। তাঁদের জন্যই বিকল্প স্বাস্থ্যবিমা হিসেবে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ চালু করল রাজ্য সরকার।








