দেশের সমস্ত প্রবীণ নাগরিকের জন্য একটি সর্বজনীন ন্যূনতম পেনশন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন রাজ্যে বয়স্কদের জন্য ভাতা বা পেনশন প্রকল্প থাকলেও, সেই সুবিধা সকলের কাছে পৌঁছায় না। তাই কেন্দ্রীয় স্তরে এমন একটি প্রকল্প চালু হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এবার সেই প্রশ্নেরই স্পষ্ট উত্তর দিল কেন্দ্র।
রাজ্যসভার সাংসদ আর. গিরিরাজন সংসদে জানতে চান, দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের জন্য ন্যূনতম পেনশন চালুর কোনও পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না। জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে বলেন, “এই মুহূর্তে এমন কোনও প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা সরকারের নেই।”
যদিও নতুন কোনও সর্বজনীন পেনশন প্রকল্পের কথা নাকচ করেছে কেন্দ্র, তবু সামাজিক সুরক্ষা বিধি, ২০২০-এর বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হল অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, গিগ কর্মী এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা।
মন্ত্রী জানান, এই আইনে একটি সামাজিক সুরক্ষা তহবিল গঠনের বিধান রয়েছে। সেই তহবিলের মাধ্যমে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করা হবে। পাশাপাশি, আইনের ১১৩ নম্বর ধারায় অসংগঠিত শ্রমিক, গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের নিবন্ধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে তাঁরা সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
সংসদে এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (ইপিএস) ২০২৬ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার উত্তরে শোভা করন্দলাজে জানান, ইপিএস একটি যৌথ পেনশন তহবিল, যেখানে নিয়োগকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়েই আর্থিক অবদান রাখে। তিনি আরও বলেন, ইপিএস-এর সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন বা ক্লেম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কোনও ব্যক্তি বা তাঁর পরিবার যোগ্য হলে, ক্লেম অনুমোদনের পর পেনশনের টাকা এবং বকেয়া একসঙ্গেই দেওয়া হয়।
এছাড়াও নিষ্ক্রিয় ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমে থাকা অর্থের পরিমাণ সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে কেন্দ্র। শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের নিষ্ক্রিয় ইপিএফ অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট ৯,৩৩০.৫৬ কোটি টাকা জমা রয়েছে।








