ভারতের গয়া এবং তাইল্যান্ডের ব্যাংককের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু করতে চলেছে ইন্ডিগো। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে এই নতুন আন্তর্জাতিক রুটে উড়ান পরিষেবা শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গয়া এবং পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় ব্যাংককের মধ্যে এই সরাসরি যোগাযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গয়া বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। অন্যদিকে ব্যাংকক আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম পরিচিত গন্তব্য। ফলে দুই শহরের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে ধর্মীয় পর্যটন, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান এবং পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছে ইন্ডিগো।
সপ্তাহে দু’দিন চলবে উড়ান
ইন্ডিগোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই রুটে সপ্তাহে দু’দিন বিমান চলবে। সোম এবং বৃহস্পতিবার গয়া থেকে ব্যাংককের মধ্যে সরাসরি উড়ান পরিষেবা পাওয়া যাবে। এর ফলে বিহার থেকে তাইল্যান্ডে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য সরাসরি বিমান পরিষেবার সুবিধা তৈরি হবে।
বিশেষ করে বুদ্ধগয়ায় আসা বিদেশি পর্যটক এবং তীর্থযাত্রীদের জন্য এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বুদ্ধগয়ার মহাবোধি মন্দির ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং বৌদ্ধধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। প্রতি বছর তাইল্যান্ড-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ বুদ্ধগয়ায় আসেন। সরাসরি উড়ান চালু হলে তাঁদের যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিহারের পর্যটনেও বাড়তে পারে গতি
নতুন আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ফলে বুদ্ধগয়াকে কেন্দ্র করে পর্যটন ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। হোটেল, পরিবহণ, স্থানীয় পরিষেবা এবং অন্যান্য পর্যটন নির্ভর ব্যবসাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে ভারত ও তাইল্যান্ডের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কেও নতুন সংযোগ
গয়া ব্যাংকক রুট ইন্ডিগোর ভারত ও তাইল্যান্ডের মধ্যে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে আরও বিস্তৃত করবে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সপ্তাহে ১৪০টিরও বেশি উড়ান পরিচালনা করে বিমান সংস্থাটি।
ব্যাংককের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, দিল্লি, হায়দরাবাদ, কলকাতা, মুম্বই এবং ভুবনেশ্বরের সরাসরি বিমান যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়াও মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং কলকাতা থেকে ফুকেটের সরাসরি উড়ান এবং দিল্লি থেকে ক্রাবির সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা রয়েছে ইন্ডিগোর।
সমাজমাধ্যমে মজার প্রতিক্রিয়া
গয়া ও ব্যাংককের মতো সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের দুই শহরের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগের ঘোষণার পর সমাজমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ নতুন রুটকে ধর্মীয় পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন, আবার কেউ দুই শহরের ভিন্ন পর্যটন সংস্কৃতিকে সামনে রেখে মজার মন্তব্য করেছেন।
নেটমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে মন্তব্য করেছেন, আগে তাইল্যান্ডে গিয়ে ঘুরে এসে পরে গয়ায় গিয়ে পুণ্য অর্জন করা যেতে পারে। অন্য এক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাইল্যান্ড থেকে প্রতি বছর বহু তীর্থযাত্রী গয়ায় আসেন, তাই সরাসরি বিমান যোগাযোগ তাঁদের যাত্রাকে আরও সহজ করবে।
সব মিলিয়ে, গয়া থেকে ব্যাংককের সরাসরি উড়ান শুধু নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানপথ নয়, দুই দেশের ধর্মীয় পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আগামী ২৬ অক্টোবর পরিষেবা শুরু হলে এই রুট যাত্রীদের মধ্যে কতটা জনপ্রিয় হয়, এখন সেদিকেই নজর।






