ঝুঁকি কম রেখে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের আয় করতে চান? সেই ক্ষেত্রে Fixed Deposit বা FD এখনও বহু বিনিয়োগকারীর অন্যতম ভরসা। বিশেষ করে যাঁদের নিয়মিত সুদের টাকা প্রয়োজন, তাঁদের জন্য Non-Cumulative FD একটি বিকল্প হতে পারে।
এ ধরনের FD-তে সুদের টাকা মূলধনের সঙ্গে যোগ হয়ে আবার বিনিয়োগ হয় না। বরং মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে সুদের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে মূলধন একদিকে থাকে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদ থেকে আয় করা যায়।
মাসে ১০ হাজার পেতে কত টাকা লাগবে?
FD থেকে মাসে ১০,০০০ টাকা আয় করতে হলে বছরে সুদ বাবদ মোট ১.২০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে, তা নির্ভর করবে FD-র সুদের হারের উপর।
আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী
৬ শতাংশ সুদ হলে প্রয়োজন প্রায় ২০ লক্ষ টাকা
৭ শতাংশ সুদ হলে প্রয়োজন প্রায় ১৭.১৪ লক্ষ টাকা
৭.২৫ শতাংশ সুদ হলে প্রয়োজন প্রায় ১৬.৫৫ লক্ষ টাকা
৭.৫ শতাংশ সুদ হলে প্রয়োজন প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা
৮ শতাংশ সুদ হলে প্রয়োজন প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা
এই হিসাবের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয়েছে, বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে সুদের টাকা তুলে নিচ্ছেন এবং সেই সুদ ফের FD-তে বিনিয়োগ করছেন না।
উদাহরণ হিসেবে, কোনও FD-তে ৮ শতাংশ বার্ষিক সুদ পাওয়া গেলে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিয়োগে বছরে প্রায় ১.২০ লক্ষ টাকা সুদ হতে পারে। অর্থাৎ মাসিক হিসাবে প্রায় ১০,০০০ টাকা।
তবে বাস্তবে পাওয়া সুদের হার ব্যাঙ্ক, মেয়াদ, বিনিয়োগকারীর বয়স এবং FD-এর ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
কোন ব্যাঙ্কে কত সুদ?
বিভিন্ন বড় ব্যাঙ্কে FD-র সুদের হার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। HDFC Bank, State Bank of India, ICICI Bank এবং Axis Bank-এর মতো ব্যাঙ্কে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ৬ শতাংশ থেকে ৭.২৫ শতাংশের কাছাকাছি সুদের হার পাওয়া যেতে পারে।
Senior Citizen বা প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে অনেক ব্যাঙ্ক সাধারণ সুদের হারের উপর অতিরিক্ত প্রায় ০.৫০ শতাংশ সুদ দেয়। আবার কিছু Small Finance Bank তুলনামূলক বেশি সুদও দিতে পারে।
তবে বেশি সুদের পিছনে ছুটে FD করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের বর্তমান সুদের হার, মেয়াদ, premature withdrawal-এর নিয়ম এবং আমানত বিমার বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।
FD-র সুদের উপর কর দিতে হয়?
FD থেকে পাওয়া সুদ সাধারণত ‘Income from Other Sources’ হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীর মোট আয় এবং প্রযোজ্য কর ব্যবস্থার ভিত্তিতে সেই সুদের উপর আয়কর লাগতে পারে।
পুরনো কর ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে Senior Citizen-রা Section 80TTB-এর অধীনে ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিসের মতো নির্দিষ্ট আমানতের সুদের উপর বছরে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত deduction পাওয়ার সুযোগ পান।
অন্যদিকে, পাঁচ বছরের Tax-Saving FD-তে বিনিয়োগ করলে প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী Section 80C-এর অধীনে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত deduction দাবি করা যায়।
TDS-এর বিষয়টিও মাথায় রাখুন
FD-র সুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে ব্যাঙ্ক TDS কাটতে পারে। PAN তথ্য দেওয়া থাকলে সাধারণত ১০ শতাংশ হারে TDS প্রযোজ্য হতে পারে। PAN না থাকলে বেশি হারে TDS কাটার নিয়ম রয়েছে।
তবে TDS কাটা মানেই চূড়ান্ত করের পরিমাণ নয়। বছরের শেষে আপনার মোট আয় এবং প্রযোজ্য কর ব্যবস্থার ভিত্তিতে প্রকৃত করের দায় নির্ধারিত হবে।
অর্থাৎ, মাসে ১০ হাজার টাকা সুদের আয় করতে চাইলে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূলধন প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুধুমাত্র সুদের অঙ্ক নয়, কর, FD-এর মেয়াদ এবং ব্যাঙ্কের বর্তমান সুদের হার মিলিয়ে তবেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।






